“সিলেটের ‘ম্যাজিকম্যান’ আরিফ কি মন্ত্রী হচ্ছেন? কেন ঢাকায় তলব?
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর সম্ভাব্য নতুন মন্ত্রিসভা নিয়ে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে সচিবালয়, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, এমনকি চায়ের দোকানেও এখন একটাই প্রশ্ন—কেমন হবে তারেক রহমান–এর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভা, আর কারা পাচ্ছেন সেখানে স্থান?
এই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন আরিফুল হক চৌধুরী—সিলেটের রাজনীতিতে ‘ম্যাজিকম্যান’ নামে পরিচিত এই নেতা এবারের নির্বাচনে সিলেট-৪ আসন থেকে বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।একটি সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনের ফলাফলের পরপরই তাঁকে ঢাকায় ডাকা হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি বিমানযোগে রাজধানীর উদ্দেশে রওনা দেন, যা রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনার জন্ম দিয়েছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে টানা দুইবার সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন আরিফুল হক চৌধুরী। প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিবেশেও নিজের অবস্থান ধরে রাখা এবং মাঠপর্যায়ে সক্রিয় উপস্থিতির কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই জনপ্রিয়তার শীর্ষে ছিলেন।
২০২৩ সালের সিটি নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি অংশ নেননি—যা দলীয় শৃঙ্খলার প্রতি তাঁর আনুগত্যের নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হয়।
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি প্রথমে সিলেট-১ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশা করেন। তবে দলের সিদ্ধান্তে তাঁকে সিলেট-৪ আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়। দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের নির্দেশে তিনি সেখানে প্রার্থী হতে সম্মত হন।
অল্প সময়ের প্রচারণায় তাঁর জনপ্রিয়তা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে এক লাখ ১৫ হাজারের বেশি ভোটে বিজয়ী হয়ে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন—যা এবারের নির্বাচনে অন্যতম বড় ব্যবধান হিসেবে আলোচিত হচ্ছে।
নিজের আসনে প্রচারণার পাশাপাশি তিনি সিলেট-১ আসনে দলীয় প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের পক্ষেও প্রচার চালান। এতে তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা ও দলীয় ঐক্য রক্ষায় ভূমিকা নতুন করে আলোচনায় আসে।
বিএনপির একাধিক সূত্র জানায়, আসন্ন মন্ত্রিসভায় দলের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি মিত্র দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের অন্তর্ভুক্ত করে জাতীয় সরকারের আদলে একটি ভারসাম্যপূর্ণ মন্ত্রিসভা গঠনের পরিকল্পনাও রয়েছে। ক্লিন ইমেজের কয়েকজন তরুণ সংসদ সদস্যও মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে।
সব মিলিয়ে আরিফুল হক চৌধুরীর ঢাকায় উপস্থিতি ও দলীয় শীর্ষ পর্যায়ের সঙ্গে তাঁর বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে কৌতূহল বেড়েছে। তিনি কি মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাচ্ছেন, নাকি দলে অন্য কোনো কৌশলগত ভূমিকায় থাকবেন—তা জানতে এখন সবার নজর কেন্দ্রীভূত রাজধানীর দিকে।
চূড়ান্ত ঘোষণা না আসা পর্যন্ত জল্পনা-কল্পনা চললেও একটি বিষয় স্পষ্ট—সিলেটের রাজনীতিতে আরিফুল হক চৌধুরীর অবস্থান এখন আরও সুদৃঢ় এবং জাতীয় রাজনীতিতে তাঁর ভূমিকা নতুন মাত্রা পেতে যাচ্ছে।





