সবুজ অ্যান্টার্কটিকা যেভাবে বরফে ঢাকা পড়ল?
আমরা অ্যান্টার্কটিকা বলতে বুঝি মাইলের পর মাইল বরফ আর পেঙ্গুইনের রাজত্ব। কিন্তু কোটি কোটি বছর আগে এই জায়গাটি এমন ছিল না। এটি ছিল বিশাল এক মহাদেশের অংশ, যেখানে ডাইনোসর ঘুরে বেড়াত এবং ছিল ঘন জঙ্গল।
আজ থেকে প্রায় ২০০ মিলিয়ন (২০ কোটি) বছর আগে পৃথিবী আজকের মতো ছিল না।
দক্ষিণ গোলার্ধে গন্ডোয়ানা নামে একটি বিশাল মহাদেশ ছিল, যার মধ্যে বর্তমানের অ্যান্টার্কটিকা, আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও দক্ষিণ আমেরিকা একসঙ্গে যুক্ত ছিল। ১৮ কোটি বছর আগে এই বিশাল ভূখণ্ডটি ভাঙতে শুরু করে।
বিজ্ঞানীরা গবেষণায় দেখেছেন যে, ডাইনোসরদের যুগে অ্যান্টার্কটিকা বেশ উষ্ণ ছিল। সেখানে তখন নাতিশীতোষ্ণ রেইনফরেস্ট বা ঘন সবুজ বন ছিল।
দক্ষিণ আমেরিকা থেকে প্রাণীরা অ্যান্টার্কটিকা হয়েই অস্ট্রেলিয়ায় যাতায়াত করত। যেমন, ক্যাঙ্গারুর মতো প্রাণীরা (মারসুপিয়াল) এই পথ দিয়েই অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছেছিল।
অ্যান্টার্কটিকা কখন পুরোপুরি আলাদা হয়ে যায়, তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে কিছুটা মতভেদ থাকলেও প্রধান দুটি ঘটনা হলো:
১। অস্ট্রেলিয়া থেকে আলাদা হওয়া: অস্ট্রেলিয়া উত্তর দিকে সরে যেতে শুরু করে।
২। দক্ষিণ আমেরিকা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া: প্রায় ৩৪ মিলিয়ন (৩ কোটি ৪০ লক্ষ) বছর আগে দক্ষিণ আমেরিকা থেকে এটি আলাদা হয়ে যায়।
যখন অ্যান্টার্কটিকা চারপাশ থেকে সমুদ্র দিয়ে ঘেরা হয়ে গেল, তখন এর চারপাশে একটি অত্যন্ত শীতল সামুদ্রিক স্রোত তৈরি হলো। এটি বাইরের উষ্ণ স্রোতকে মহাদেশের কাছে আসতে বাধা দিল। ফলে ধীরে ধীরে পুরো মহাদেশটি বরফের চাদরে ঢেকে গেল এবং আজকের হিমায়িত রূপ নিল।
অ্যান্টার্কটিকার বিশাল বরফ সূর্যের আলোকে প্রতিফলিত করে পৃথিবীকে ঠাণ্ডা রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু বর্তমান জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই বরফ গলে যাচ্ছে। বরফ যত বেশি গলবে, সমুদ্রের উচ্চতা তত বাড়বে এবং পৃথিবীর তাপমাত্রা আরও বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।সূত্র : লাইভ সাইন্স







