সরকারি স্বীকৃতিতে প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষার নতুন দিগন্ত
হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলের প্রত্যন্ত ফদ্রখলা এলাকায় অবস্থিত করাঙ্গী ইসলামি একাডেমি এন্ড হাই স্কুল গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠদান অনুমতির সনদ অর্জন করেছে। এর মাধ্যমে ওই অঞ্চলে মানসম্মত ও যুগোপযোগী শিক্ষা বিস্তারে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্থাপিত হলো। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) হবিগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. শাহ আলম স্বাক্ষরিত এক পত্রে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নিবন্ধন বিধিমালা, ২০২৩-এর বিধি ৪-এর উপবিধি (৫)-এর আওতায় করাঙ্গী ইসলামি একাডেমি এন্ড হাই স্কুলকে প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠদান অনুমতির সনদ প্রদান করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পত্রের অনুলিপি প্রেরণ করা হয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক, সিলেট বিভাগের প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের উপপরিচালক এবং বাহুবল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কার্যালয়ে।
উল্লেখ্য, গত বছর প্রত্যন্ত এলাকায় প্রতিষ্ঠিত করাঙ্গী ইসলামি একাডেমি এন্ড হাই স্কুল অল্প সময়ের মধ্যেই এলাকাবাসীর আস্থা অর্জন করে। প্রতিষ্ঠানটিতে বাংলা, ইংরেজি ও গণিত শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে চালু রয়েছে স্পোকেন ইংলিশ ক্লাসসহ আনন্দঘন পরিবেশে পাঠদানের ব্যবস্থা। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মজিদ সুলতান বলেন, সরকারি পাঠদান অনুমতি পাওয়ায় আমাদের প্রতিষ্ঠান আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। আমরা হাতে-কলমে শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মানসিক ও সৃজনশীল বিকাশে গুরুত্ব দিচ্ছি। পড়াশোনার পাশাপাশি গান, কবিতা আবৃত্তি ও বিভিন্ন সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আমাদের লক্ষ্য শুধু ভালো ফলাফল নয়; বরং শিক্ষার্থীদের একজন আদর্শ ও নৈতিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা।
বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সিদ্দিকুর রহমান মাসুম বলেন, বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নিবন্ধন বিধিমালা, ২০২৩-এর আওতায় সরকারি স্বীকৃতি পাওয়া আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। এ স্বীকৃতির মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রমে শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও মানোন্নয়ন আরও সুসংহত হবে। এলাকাবাসীর মতে, করাঙ্গী ইসলামি একাডেমি এন্ড হাই স্কুল বর্তমানে শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, বরং প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুদের স্বপ্ন গড়ার একটি নির্ভরযোগ্য আশ্রয়স্থল। সরকারি স্বীকৃতির ফলে প্রতিষ্ঠানটির সুনাম ও কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।







