স্ত্রীকে নিয়ে নৌকায় দর্শনীয় স্থান ঘুরলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত
‘ধান-নদী-খাল, এই মিলে বরিশাল’—পরিচিত এই প্রবাদবাক্যটি ভাঙা বাংলায় উচ্চারণ করে বরিশালের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রশংসা করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। দুই দিনের সফরে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে রোববার ভোরে লঞ্চে বরিশালে পৌঁছে দিনভর বরিশাল ও ঝালকাঠির বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখেন তিনি।
সোমবার দুপুরে সড়কপথে বরিশাল ছাড়ার কথা রয়েছে তাঁর। সফরকালে রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সার্বক্ষণিক ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
রোববার দিনের শুরুতেই ঝালকাঠির ভীমরুলি পেয়ারা বাগান ও ঐতিহ্যবাহী ভাসমান পেয়ারা হাট পরিদর্শন করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। সকাল ৯টার দিকে সেখানে পৌঁছালে পেয়ারা চাষিরা তাঁকে স্বাগত জানান। রাষ্ট্রদূতও চাষিদের উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান এবং তাঁদের সঙ্গে ছবি ও সেলফিতে অংশ নেন।
পরে নৌকায় করে খালে ঘুরে ভীমরুলির পেয়ারা বাগানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করেন তিনি। এ সময় গাছ থেকে পেয়ারা পেড়ে খান রাষ্ট্রদূত।
নিজের অভিজ্ঞতা জানাতে ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘পেয়ারা খেয়ে দেখার সুযোগ পেয়েছি, বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলতে পেরেছি এবং কীভাবে পেয়ারা তোলা হয়, তা দেখেছি। অবশ্যই কিছু পেয়ারা চোখেও দেখেছি।’
এরপর সাংবাদিকদের সঙ্গে নৌভ্রমণে অংশ নেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। বরিশাল প্রেস ক্লাবের আয়োজনে লঞ্চে প্রায় দুই ঘণ্টা কীর্তনখোলা নদীতে ভ্রমণ করেন তিনি। এ সময় জাতীয় গণমাধ্যমে বরিশালে কর্মরত সাংবাদিকরা তাঁর সঙ্গে ছিলেন।
নৌভ্রমণের সময় ভাঙা বাংলায় রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমি প্রথমবার বরিশালে এসেছি। এখানকার প্রকৃতি খুব সুন্দর। মানুষগুলো খুব ভালো।’
সফরের অংশ হিসেবে বরিশাল সদর উপজেলার কড়াপুরের ঐতিহাসিক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন মিয়াবাড়ি মসজিদ, বিকেলে বরিশাল শংকর মঠ এবং সন্ধ্যায় সকাল-সন্ধ্যা মিষ্টির দোকান পরিদর্শন করেন তিনি।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের সবচেয়ে বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির রাষ্ট্রদূত বরিশালে বেড়াতে এসেছেন। কী কারণে তিনি বরিশালে এসেছেন, তা তিনি জানেন না। তবে মন্ত্রী হিসেবে নয়, বরিশালের একজন মানুষ হিসেবে রাষ্ট্রদূতকে আতিথেয়তা করা তাঁর দায়িত্ব। সেই দায়িত্বের অংশ হিসেবেই তিনি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে রয়েছেন।







