সুনামগঞ্জে বিয়ের প্রলোভনে ডেকে এনে কিশোরীকে নির্যাতনের অভিযোগ
সুনামগঞ্জে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ডেকে এনে ১৭ বছরের এক কিশোরীকে কয়েকদিন আটকে রেখে নির্যাতন এবং পরে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় সংঘবদ্ধভাবে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি জানাজানি হলে বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা থেকে অভিযুক্ত তিনজনকে আটক করেছে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার পুলিশ। এ সময় অপরাধে ব্যবহৃত একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাও জব্দ করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে প্রায় চার মাস আগে সুনামগঞ্জের ‘ভৈরব’ নামের এক যুবকের সঙ্গে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার ওই কিশোরীর পরিচয় হয়। পরিচয়ের সূত্র ধরে তাদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়তে থাকে এবং একপর্যায়ে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে বিয়ের আশ্বাসে মেয়েটিকে সুনামগঞ্জে আসতে প্রলুব্ধ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী কিশোরী সুনামগঞ্জে এলে ওই যুবক তাকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানায় এবং তার বন্ধু সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক সোহেলের কাছে রেখে দেয় বলে অভিযোগ উঠে। পরিবার একবার তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে নিলেও পরে আবার বিয়ের আশ্বাস দিয়ে সোহেল তাকে নিজের কাছে নিয়ে আসে।
অভিযোগ রয়েছে, এই সুযোগে সোহেল প্রায় দুই সপ্তাহ তাকে নিজের বাড়িতে আটকে রেখে একাধিকবার শারীরিকভাবে নির্যাতন করে। গত ১ মার্চ সোহেলের মায়ের সঙ্গে কিশোরীর ঝগড়া হলে তাকে সুনামগঞ্জ শহরের একটি বাসায় রেখে সোহেল সিলেটে চলে যায়।
পরে ওই কিশোরী বাড়িতে ফিরে যেতে চাইলে সোহেলের বন্ধু এরশাদ ও মাসুম তাকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তোলে। অভিযোগ অনুযায়ী, পথিমধ্যে সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার পলাশ এলাকার একটি নির্জন স্থানে অটোরিকশার ভেতরে তাকে জোরপূর্বক নির্যাতন করা হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে সোহেল, মাসুম ও এরশাদকে ভিন্ন ভিন্ন এলাকা থেকে আটক করে। এ সময় অপরাধে ব্যবহৃত সিএনজিচালিত অটোরিকশাটিও জব্দ করা হয়।
সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রতন শেখ বলেন, “ঘটনার খবর পাওয়ার পর দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত তিনজনকে আটক করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। তার চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা নিশ্চিত করা হবে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও জানান, ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা রক্ষা করে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার নিন্দা জানিয়ে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল করিম বলেন, “এ ধরনের ঘটনা সমাজের জন্য খুবই লজ্জাজনক। যারা এমন অপরাধ করে তাদের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন কাজ করার সাহস না পায়।”
একজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে অনেক সময় তরুণ-তরুণীরা অপরিচিত মানুষের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে এবং পরে বিপদে পড়ে। পরিবার ও সমাজকে এ বিষয়ে আরও সচেতন হতে হবে।”
সামাজিক সংগঠক নাজমুল ইসলাম বলেন, “এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীর মানসিক ও সামাজিক সহায়তা নিশ্চিত করা দরকার।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করার ক্ষেত্রে তরুণ-তরুণীদের সতর্ক থাকা জরুরি। অপরিচিত কারও প্রলোভনে কোথাও যাওয়ার আগে পরিবারকে জানানো এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






