সুনামগঞ্জে ছাত্রী হোস্টেলে ‘কনডম কাণ্ড’: উত্তাল কলেজ ক্যাম্পাস
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজের ছাত্রী হোস্টেলে ‘কনডম’ পাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পুরো ক্যাম্পাস। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দিনভর বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেন বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীরা ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে তার কক্ষে অবরুদ্ধ করে তালা লাগিয়ে দেন। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় দায়িত্ব পালনকারী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি দল সাময়িকভাবে ছাত্রী হোস্টেল ভবনে অবস্থান নেয়। সে সময় হোস্টেলে কোনো ছাত্রী ছিলেন না। পরবর্তীতে ভবনের বাথরুম পরিষ্কার করতে গিয়ে কিছু কনডমের প্যাকেট পাওয়া যায় বলে কলেজের বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন শিক্ষার্থী দাবি করেন।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে। এতে অনৈতিক কার্যক্রমের ইঙ্গিত থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বুধবার বেলা ১১টার দিকে জামালগঞ্জ রিভার ভিউ পার্ক এলাকা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি উপজেলা সদরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হয়ে কলেজ প্রাঙ্গণে এসে অবস্থান নেয়। বিকেল পর্যন্ত চলতে থাকে প্রতিবাদ কর্মসূচি।
বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বিষয়টি কলেজ প্রশাসনকে মৌখিকভাবে জানানো হলেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আশ্বাস দিলেও কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় তারা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন। একই সঙ্গে ছাত্রী হোস্টেলের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে আগের নানা অভিযোগও তুলে ধরেন তারা।
কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুজিত রঞ্জন দে বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে হল সুপার মুজিবুর রহমান ও ইতিহাস বিভাগের প্রধান পঙ্কজ বর্মণকে হোস্টেলের অতিরিক্ত দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তাপস শীল বলেন, শুরুতেই যথাযথ উদ্যোগ নিলে পরিস্থিতি এতটা উত্তপ্ত হতো না। শিক্ষার্থীদের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। শিক্ষার্থীরা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।





