সুনামগঞ্জে প্রেমিকের সঙ্গে বিয়ের দাবিতে অনশনে স্ত্রী, দুধ দিয়ে গোসল করে সম্পর্ক ছিন্ন করলেন স্বামী

স্ত্রীর ছবিটি প্রতীকী এআই দিয়ে তৈরী
বিয়ের দাবিতে এক নারীর টানা তিন দিনের অনশনকে কেন্দ্র করে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে ওই নারীর স্বামী দুধ দিয়ে গোসল করে স্ত্রীর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দেওয়ায় ঘটনাটি এলাকায় নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ায় চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার উত্তর কলাউড়া গ্রামে। অনশনরত নারী মাহমুদা আক্তার উপজেলার রাঙাউটি গ্রামের সোহেল মিয়ার স্ত্রী এবং তিন সন্তানের জননী। অভিযোগ রয়েছে, একই গ্রামের ফয়েজ মিয়া ওরফে খয়েজের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে তার প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছিল। এ সম্পর্ককে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ও পারিবারিক কলহ চলছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি মাহমুদা আক্তার স্বামীর সংসার ছেড়ে ফয়েজ মিয়ার বাড়িতে গিয়ে তাকে বিয়ের দাবিতে অনশন শুরু করেন। টানা তিন দিন ধরে তিনি সেখানে অবস্থান করছেন বলে স্থানীয়রা জানান। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনা শুরু হয়।
শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে স্ত্রীর এমন কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ হয়ে সোহেল মিয়া দুধ দিয়ে গোসল করেন। এরপর তিনি স্ত্রীর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্কের ইতি টানার ঘোষণা দেন। তার এমন ব্যতিক্রমী প্রতিক্রিয়ায় ঘটনাটি আরও আলোচনায় আসে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, মাহমুদা আক্তার ও ফয়েজ মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের বিষয়টি নিয়ে এর আগেও পারিবারিকভাবে নানা টানাপোড়েন ছিল। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর স্বামী সোহেল মিয়া মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। একপর্যায়ে স্ত্রী অন্য এক পুরুষের বাড়িতে গিয়ে বিয়ের দাবিতে অনশন করায় তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে এমন সিদ্ধান্ত নেন।
এদিকে সাংবাদিকদের কাছে অনশনরত মাহমুদা আক্তার তার সঙ্গে ফয়েজ মিয়ার প্রেমের সম্পর্কের কথা স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে। তবে তিনি কী কারণে স্বামীর সংসার ছেড়ে ফয়েজ মিয়ার বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন, সে বিষয়ে তার বক্তব্যের বিস্তারিত জানা যায়নি।
অন্যদিকে ঘটনার পর থেকে ফয়েজ মিয়া তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ রেখেছেন। তিনি বর্তমানে কোথায় রয়েছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ নিয়েও নানা আলোচনা চলছে। বিশেষ করে তিন সন্তানের মা হয়ে বিয়ের দাবিতে অন্যের বাড়িতে অনশন এবং এর প্রতিক্রিয়ায় স্বামীর দুধ দিয়ে গোসল করে সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা—দুই ঘটনাই স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি করেছে। কেউ বিষয়টিকে পারিবারিক ভাঙনের দুঃখজনক পরিণতি হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ সামাজিকভাবে এমন ঘটনা ছড়িয়ে পড়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, দাম্পত্য জীবনের বিরোধ বা ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয় এভাবে প্রকাশ্যে চলে আসা পরিবার ও সন্তানদের জন্যও বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। তাই বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা না বাড়িয়ে সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য শুনে শান্তিপূর্ণ সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
এদিকে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে স্থানীয় মাতব্বর ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টির সুরাহার চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে। তারা দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করার উদ্যোগ নিয়েছেন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, পারিবারিক বিরোধ ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের এই ঘটনাটি যেন আরও জটিল আকার ধারণ না করে। বিশেষ করে তিন সন্তানের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্টরা দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত নেবেন—এমনটাই আশা করছেন তারা। তবে শেষ পর্যন্ত অনশনরত মাহমুদা আক্তার ও তার কথিত প্রেমিক ফয়েজ মিয়ার সম্পর্কের কী পরিণতি হয় এবং স্বামী সোহেল মিয়ার ঘোষণার পর পারিবারিকভাবে কী সিদ্ধান্ত আসে, সেটিই এখন স্থানীয়দের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।






