তারেক রহমানকে বরণে শ্বশুরবাড়িতে রান্না হচ্ছে ৪০ ডেগ আখনি
সারি বেঁধে চুলায় বড় বড় ডেগে (পাতিল) রান্না হচ্ছে। নামানো হচ্ছে একটির পর একটি। একে একে সাজিয়ে রাখা হচ্ছে ডেগগুলো। রান্না হয়ে গেলে এগুলোর ঢাকনা খুলে নাড়াচাড়া করে দেখছিলেন বাবুর্চি। আজ বুধবার বিকেলে সিলেটের দক্ষিণ সুরমার সিলাম ইউনিয়নের বিরাইমপুর গ্রামের ‘মিনিস্টার’ বাড়িতে দেখা গেছে এমন চিত্র।
ওই বাড়ি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের শ্বশুরবাড়ি। তারেক রহমানের শ্বশুর ছিলেন নৌবাহিনীর সাবেক প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান। পরে তিনি ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রীও ছিলেন। এ জন্য বাড়িটিকে মিনিস্টার বাড়ি হিসেবে সবাই চেনেন।
আজ রাতে সিলেটে এসে পৌঁছাবেন তারেক রহমান। রাতেই সিলেটের শাহজালাল (রহ.) ও শাহপরান (রহ.)–এর মাজার জিয়ারত শেষে তাঁর স্ত্রী জুবাইদা রহমানের পৈতৃক বাড়ি দক্ষিণ সুরমা উপজেলার বিরাইমপুর গ্রামে যাওয়ার কথা রয়েছে। তিনি জুবাইদার পরিবারের প্রয়াত সদস্যদের কবর জিয়ারত করবেন। পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও জুবাইদার পরিবারের প্রয়াত সদস্যদের স্মরণে মিলাদ মাহফিল শেষে তারেক রহমান এবং তাঁর সফরসঙ্গীসহ দলীয় নেতা-কর্মী ও এলাকার লোকজনের জন্য খাবার পরিবেশন করা হবে। এটি বিতরণ করা হবে ‘শিরনি’ হিসেবে।
রান্নার দায়িত্বে থাকা প্রধান বাবুর্চি মো. হাসু মিয়া বলেন, ‘প্রায় ১২ হাজার মানুষের জন্য ৪০ ডেগ আখনি রান্না করা হচ্ছে। আটটি গরু, ৩৪ বস্তা চালের আখনি রান্না হচ্ছে। এতে ৫০ জন বাবুর্চি অংশ নিচ্ছেন। আজ সকাল থেকে রান্নার আয়োজন শুরু হয়েছে। আশা করা যায়, রান্না খেয়ে প্রশংসা করবেন এলাকার জামাই তারেক রহমান।’
তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমানের চাচাতো ভাই নাসির আলী খান রান্নাসহ বাড়িতে আসা লোকজনের তদারক করছিলেন। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর আপা, দুলাভাই আসবেন। তাদের বরণ করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।’
বিকেলে জুবাইদা রহমানের গ্রামের বাড়িতে দেখা হয় সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ) আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য প্রার্থী ও যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সভাপতি আবদুল মালিকের সঙ্গে। তিনি দলের নেতা–কর্মীদের সঙ্গে বিভিন্ন আয়োজন ঘুরে দেখছিলেন।
তিনি বলেন, ‘তারেক রহমান শুধু দলের চেয়ারম্যানই নন, তিনি আমাদের ভগ্নিপতি। দীর্ঘদিন পর তিনি শ্বশুরবাড়িতে আসছেন, এতে এলাকার বাসিন্দা হিসেবে আমরা অত্যন্ত খুশি।’
আবদুল মালিক বলেন, ‘দলের প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সিলেটে মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করতেন। এরই পরম্পরায় দলের বর্তমান চেয়ারম্যানও সিলেটে মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে প্রচারণা শুরু করবেন।’
মিনিস্টার বাড়িতে পৌঁছানোর পথে তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে বিভিন্ন বিলবোর্ড ও তোরণ বানানো হয়েছে। স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ–সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীরা এসব বানিয়েছেন। কোনো কোনো বিলবোর্ড ও তোরণে ‘দুলাভাইকে পুণ্যভূমিতে স্বাগতম’, ‘বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে স্বাগতম’ ইত্যাদি লেখা দেখা যায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, জুবাইদা রহমানের বাড়িতে প্রবেশের আগে সড়কে লাগানো হয়েছে পাশাপাশি ছয়টি তোরণ। বাড়ির প্রবেশ ফটকের মুখে পরিবারের সদস্যদের সৌজন্যে লাগানো হয়েছে আরও একটি তোরণ। তোরণ পেরিয়ে লাল ফটক। ফটক পেরোনোর পর বড় পুকুর। পুকুরপাড় ঘেঁষে যেতে হয় জুবাইদা রহমানের বাড়ি। এর মধ্যে পুকুরপাড়ে প্রথমে একটি এবং ভেতরে আরও দুটি বাড়ি। তিনটি বাড়ি ঘিরেই ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা লাগানো দেখা গেছে। বাড়িগুলোর প্রবেশপথে আলোকিত করার জন্য লাগানো হয়েছে বাতি। বাড়িগুলোর মধ্যে পুকুরপাড়ের বাড়ির পাশে শামিয়ানা টাঙিয়ে বেশ কয়েকটি চেয়ার পেতে রাখা হয়েছে। বাড়ির পাশেই রান্নার আয়োজন চলছে।
স্থানীয় বিএনপির নেতা–কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৯৪ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের সঙ্গে জুবাইদা রহমানের বিয়ে হয়। ২০০৪ সালে দক্ষিণ সুরমার সিলাম ইউনিয়নে দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান শ্বশুরবাড়িতে প্রথমবারের মতো গিয়েছিলেন। ২১ বছর পর দ্বিতীয়বারের মতো তিনি সেখানে যাচ্ছেন।







