ভাগবত এপারেন্স ডে পালিত, যজ্ঞ-আয়োজনে জমজমাট ফেস্টিভ্যাল
প্রখর রোদ। তবু সকাল থেকেই ইসকন সিলেট মন্দির প্রাঙ্গণে ভক্ত-দর্শনার্থীদের আনাগোনা। কোথাও একসঙ্গে বসে ১৬০ জনের শ্রীমদ্ভাগবত পারায়ণ, কোথাও চলছে হোমযজ্ঞ। যজ্ঞের মন্ত্রোচ্চারণ আর হরিনাম সংকীর্তনের সুরে মুখর চারপাশ। কেউ মনোযোগ দিয়ে পাঠ শুনছেন, কেউ হাতে তুলে নিচ্ছেন শ্রীমদ্ভাগবত, আবার কেউ অন্যের হাতে পৌঁছে দিতে দান করছেন গ্রন্থ।
এভাবেই শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সিলেটে দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে ভাগবত এপারেন্স ডে। ইসকন সিলেট মন্দিরে আয়োজিত এ ফেস্টিভ্যালে ভাগবত পারায়ণ, হোমযজ্ঞ, কীর্তন ও ভাগবত মহিমা আলোচনাকে ঘিরে তৈরি হয় ভিন্নধর্মী এক আধ্যাত্মিক আবহ।
অনুষ্ঠানে ইসকন সিলেট মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক ভাগবত করুনা দাস ব্রহ্মচারী বলেন, “শ্রীমদ্ভাগবত মানুষের জীবনে আধ্যাত্মিক জ্ঞান ও মূল্যবোধের শিক্ষা দেয়। নিয়মিত ভাগবত পাঠ ও শ্রবণের মাধ্যমে মানুষ জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতে পারে। তাই ঘরে ঘরে ভাগবতের বাণী পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন।”
তিনি আরও বলেন, “শুধু একটি দিনে নয়, নিয়মিত শাস্ত্র অধ্যায়ন ও শ্রবণের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। এর মাধ্যমে ব্যক্তি ও সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।”
এবারের আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল একসঙ্গে ১৬০ জনের শ্রীমদ্ভাগবত পারায়ণ। প্রখর রোদের মধ্যেও ভক্তরা মনোযোগ দিয়ে পারায়ণে অংশ নেন। একই সময়ে চলে হোমযজ্ঞ। একদিকে মন্ত্রোচ্চারণ, অন্যদিকে ভাগবত পারায়ণ—দুইয়ের সমন্বয়ে মন্দির প্রাঙ্গণে সৃষ্টি হয় এক অনন্য পরিবেশ।
আয়োজকেরা জানান, ১৬০ জনকে একসঙ্গে ভাগবত পারায়ণে যুক্ত করার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো মানুষের মধ্যে শ্রীমদ্ভাগবত পাঠ ও শ্রবণের আগ্রহ তৈরি করা।
অনুষ্ঠানে শ্রীমদ্ভাগবত গ্রহণ ও দানের দৃশ্যও ছিল চোখে পড়ার মতো। কেউ নিজের জন্য গ্রন্থ গ্রহণ করেছেন, আবার কেউ অন্যের হাতে পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে ভাগবত দান করেছেন।
একজন দর্শনার্থী বলেন, “প্রখর রোদের মধ্যেও এত মানুষকে একসঙ্গে পারায়ণে অংশ নিতে দেখে ভালো লেগেছে। যজ্ঞ, পাঠ ও কীর্তন মিলিয়ে পরিবেশটিও ছিল অন্যরকম।”
দিনব্যাপী আয়োজনে ভাগবত মহিমা আলোচনা, হোমযজ্ঞ, কীর্তন ও ভাগবত পারায়ণ অনুষ্ঠিত হয়। বাইরে থেকেও অনেক দর্শনার্থী এসে এ আয়োজন উপভোগ করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইসকন সিলেট মন্দিরের প্রধান পূজারি কালচক্র নৃসিংহ দাস ব্রহ্মচারী, ইসকন সিলেট বিভাগীয় নামহট্ট প্রচার বিভাগের সদস্য পাণ্ডব গোবিন্দ দাস ব্রহ্মচারী, বিভাগীয় কমিটির ভূমি ব্যবস্থাপনা ও আইন বিভাগের সদস্য শ্রীধর সুধাম দাস, ভক্ত কল্যাণ ও আদিবাসী উন্নয়ন বিভাগের সদস্য পরমেশ্বর কৃষ্ণ দাস, ইসকন সিলেট ইয়ুথ ফোরামের কো-অর্ডিনেটর দেবামৃত নিতাই দাস ব্রহ্মচারী, মন্দিরের কমান্ডার দেবেন্দ্র কেশব দাস ব্রহ্মচারী এবং যোগাযোগ বিভাগের পরিচালক সিদ্ধ মাধব দাস প্রমুখ।
শ্রীমদ্ভাগবত পারায়ণের নেতৃত্ব দেন ইসকন সিলেট ইয়ুথ ফোরামের পরিচালক দেবর্ষি শ্রীবাস দাস ব্রহ্মচারী।
সবশেষে উপস্থিত ভক্ত ও দর্শনার্থীদের মধ্যে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয়। মহাপ্রসাদ গ্রহণের মধ্য দিয়ে শেষ হয় দিনব্যাপী ভাগবত এপারেন্স ডে ফেস্টিভ্যাল।








