ভাষা আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ৯ ফেব্রুয়ারি
১৯৫২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি বাংলা ভাষা রক্ষার আন্দোলন এক নতুন মাত্রায় পৌঁছায়। পাকিস্তান সরকারের উর্দু-প্রাধান্য নীতির বিরুদ্ধে দেশব্যাপী তুমুল প্রতিবাদ চলছিল। আগের কয়েক দিনের আন্দোলন এদিন তীব্র আকার নেয়।
এই দিনে প্রধান আন্দোলনকারীরা মূলত বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেওয়ার দাবিতে অবস্থান নেন। বিক্ষোভকারীরা ব্যানার, স্লোগান এবং বক্তৃতার মাধ্যমে পাকিস্তান সরকারের নীতি ও ছাত্রদের ওপর চলমান সহিংসতার সমালোচনা করেন। পুলিশের বাধা সত্ত্বেও নাগরিকদের অংশগ্রহণ ব্যাপক ছিল।
৮ ফেব্রুয়ারি পুলিশি দমন-নিপীড়নের পরও বিক্ষোভকারীরা থেমে থাকেননি। ৯ ফেব্রুয়ারি রাজধানী ঢাকা প্রায় অচল হয়ে যায়, ছাত্র ও সাধারণ মানুষ হরতাল ও রাস্তায় সমাবেশের মাধ্যমে তাদের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।
সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহ্বানে ঢাকা শহরের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সফল ছাত্র ধর্মঘট পালিত হয়। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর আরবি হরফে বাংলা লেখা এবং উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার প্রচেষ্টার প্রতিবাদে হাজার হাজার ছাত্র রাজপথে নেমে আসেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অবস্থিত ঐতিহাসিক ‘আমতলায়’ (বর্তমান ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে) এক বিশাল ছাত্র সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে তৎকালীন ছাত্রনেতারা জ্বালাময়ী বক্তব্য দেন এবং ঘোষণা করেন যে, কোনো অবস্থাতেই বাঙালির মাতৃভাষার অধিকার কেড়ে নিতে দেওয়া হবে না।
৯ ফেব্রুয়ারির মিছিলে স্লোগান ছিল ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’, ‘আরবি হরফে বাংলা লেখা চলবে না’, ‘নুরুল আমিন গদি ছাড়ো’।
এই দিনে বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশ ছাত্র-জনতার ওপর লাঠিচার্জ করে ও টিয়ারগ্যাস ছোড়ে। অনেকে গ্রেপ্তার হন।
দমন-নিপীড়ন সত্ত্বেও আন্দোলনকারীরা হাল ছাড়েননি। ছাত্ররা আরও সংগঠিতভাবে আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যান, যা ২১ ফেব্রুয়ারি শহিদ দিবসের দিকে নিয়ে যায়।






