ভোট নিরপেক্ষ হলে মেনে নেব: জামায়াত আমির
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজ ভোটকেন্দ্র ঢাকা-১৫ আসনে ভোট দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। পরে এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেছেন, ‘ভোট নিরপেক্ষ হলে আমরা তা মেনে নেব।’
আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা ২০মিনিটে মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ কেন্দ্রে তিনি ভোট প্রদান করেন। পরে তিনি কেন্দ্রের বিভিন্ন বুথ পরিদর্শন করেন এবং উপস্থিত ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেন।
পরে গণমাধ্যমকর্মীদের জামায়াত আমির বলেন, ‘দেড় যুগ পর আজ ভোট দিতে পেরে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। আমি আশা করি, এই ভোটের মাধ্যমে একটি নতুন বাংলাদেশ গঠিত হবে-যে সরকার হবে সবার সরকার, কোনো ব্যক্তি বা পরিবারের নয়।’
সারাদেশের নির্বাচনী পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘এখনই কেন্দ্র থেকে এলাম। সারাদেশের খোঁজ নেব। ছোটখাটো কোনো বিষয় হলে আমরা এড়িয়ে যাব, তবে বড় কোনো অনিয়ম হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভোট নিরপেক্ষ হলে আমরা তা মেনে নেব।’
তিনি আরও বলেন, ‘জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমেই একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা সম্ভব। ভোটকেন্দ্রে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানাচ্ছি।’ এ সময় দেশবাসীকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান তিনি।
নির্বাচনে টাকা ছড়ানোর অভিযোগ প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ‘এ বিষয়ে বিভিন্ন মিডিয়া বিভিন্ন ধরনের খবর দিচ্ছে। মিডিয়া নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করছে না।’
ঢাকা-১৫ আসন থেকে এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জামায়াতের শীর্ষ নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান। ভোটারদের একটি অংশের মতে, এ আসনে মূল লড়াই এই দুই প্রার্থীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে।
এর আগে ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন ডা. শফিকুর রহমান। সে সময় জামায়াতের নিবন্ধন না থাকায় তিনি বিএনপির প্রতীক ‘ধানের শীষ’ নিয়ে নির্বাচন করেন। আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত সেই নির্বাচনে তিনি তৎকালীন সরকারদলীয় প্রার্থী কামাল আহমেদ মজুমদারের কাছে পরাজিত হন।
এ আসনের অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন সিপিবির আহাম্মদ সাজেদুল হক, জাতীয় পার্টির মো. সামসুল হক, বাংলাদেশ জাসদের মো. আশফাকুর রহমান, জনতার দলের খান শোয়েব আমান উল্লাহ, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির মোবারক হোসেন এবং আমজনতার দলের মো. নিলাভ পারভেজ।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৪, ১৩, ১৪ ও ১৬ নম্বর ওয়ার্ড (মিরপুর-কাফরুল) নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৫ আসন। তালতলা, শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, কাফরুল, মিরপুর-১০, মিরপুর-১৪, কচুক্ষেত ও পূর্ব সেনপাড়াসহ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা এ আসনের অন্তর্ভুক্ত।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৫১ হাজার ৭১৮ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৭২ হাজার ৯০২ জন, যা মোট ভোটারের প্রায় ৪৯ শতাংশ। নারী ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এ আসনের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।





