ভূমিহীন সেজে লিজ নিয়ে চাষাবাদের নামে শতবর্ষি হিজল বন ধ্বংসের অভিযোগ
শতবর্ষি হিজল বন ধংশ করে চাষাবাদ করেছেন কৃষকের নাম ব্যবহার করে একটি চক্র। এতে করে হুমকির মুখে পড়েছে টাংগুয়ার হাওরের প্রকৃতি পরিবেশ প্রতিবেশ জীববৈচিত্র্য৷ হিজল গাছ কেটে ও উঠিয়ে ফেলে অবৈধভাবে চাষাবাদ করার কারনে সচেতন মহলে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় কোনো কাজেই আসছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
হিজল বনটি সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার রংচি গ্রামের পাশে টাংগুয়ার হাওরের ভিতরে অবস্থান। উদ্দেশ্য এই জায়গা দখলে নেয়া, আর সেই কৌশলেই এগিয়ে যাচ্ছে একটি চক্র। এর ফলে ভবিষ্যতে ভয়াবহ পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, একেই সাথে হিজল বাগানটিও আর থাকবে না। সে কারনে হিজল বাগান রক্ষায় স্থায়ী ব্যবস্থার দাবি তুলেছেন সচেতন মহল।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাদার ফিসারিজ খ্যাত টাংগুয়ার হাওর দ্বিতীয় রামসার সাইট। দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্বশীলদের দায়িত্বহীনতা আর অব্যবস্থাপনায় চরম অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে। হাওরের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রংচি হিজল বাগান গুরুত্বপূর্ণ। সরকারী ভাবে এই হিজল গাছ রোপন করে বাগান করা হয়েছিল।
ঐ বাগানে ও তার আশ পাশের জায়গায় চাষাবাদ শুরু করলে মধ্যনগর উপজেলা প্রশাসন রংচি হিজল বাগানে সব ধরনের চাষাবাদ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। কিন্তু নিষেধাজ্ঞাকে উপেক্ষা করে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র চাষের নামে শতবর্ষী হিজল গাছের শিকড় কেটে ফেলে জমি প্রস্তুত ও ফসল উৎপাদনের জন্য চাষাবাদে ব্যস্ত রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আব্দুল মোতালেব, আমান মিয়সহ অনেকেই জানান, হিজল গাছ গুলো রক্ষা করা খুবই প্রয়োজন, কোনো ভাবেই গাছ গুলোর ক্ষতি হয় এমন কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে সবাইকে। যাদের কে লিজ দেয়া হয়েছে তাদের লিজ বাতিল করলে আর ঐ খানে যেতেও পারবে না কোনো ক্ষতিও হবে না।
পরিবেশ নিয়ে কাজ করে বিভিন্ন সংগঠনের নেতা গন বলছেন,কোনো ভাবেই প্রকৃতি পরিবেশ প্রতিবেশ জীববৈচিত্র্য কে হুমকির মুখে পড়তে দেয়া যাবে না। রংচি হিজল বনের বিষয়ে প্রশাসন ভাল ভাবে খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিবেন আশা করছি।
এই বিষয়ে মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উজ্জ্বল রায় জানান, ঐ বনের জমিতে যারা চাষাবাদ করেছেন তাদেরকে নিষেধ করার পর তারা চাষাবাদ বন্ধ রেখেছে। আর যারা চাষাবাদ করেছেন তাদের সরকারী ভাবে ভূমিহীন হিসাবে জায়গা বন্দোবস্তের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দেয়া হয়েছে আমি আসার অনেক পূর্বে। আর চাষাবাদ যেহেতু করেই ফেলেছে তা ত আর নষ্ট করা যাবে না মানবিক বিবেচনায়।তবে এখন যেহেতু হিজল বনের ক্ষতি হচ্ছে,পরিযায়ী পাখির নিরাপদ আবাসস্থল ব্যাহত হবে,হাওরের প্রকৃতি,পরিবেশ,প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে তাই তাদের বন্দোবস্ত বাতিল করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। যেন তারা আগামীতে চাষাবাদ করতে না পারে। বাতিল করা হলে আর এই সমস্যা থাকবে না।








