বিয়ানীবাজারে চিনি লুট: ৮০ বস্তা চিনি উদ্ধার, গ্রেফতার ২

সিলেটের বিয়ানীবাজারে ট্রাকভর্তি চিনি ছিনতাই হওয়ার চারদিন পর চার ভাগের মধ্যে একভাগেরও কম চিনি এবং একটি পিকআপ ভ্যান মঙ্গলবার বিকালে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এরপর ওইদিন দিবাগত রাতে পুলিশের অভিযানে ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-কিশোরগঞ্জ জেলার মিঠামইন উপজেলার হোসাইনপুর গ্রামের মো. খলিল মিয়ার ছেলে মো. লিটন মিয়া (২৬)। সে বর্তমানে বিয়ানীবাজার পৌরসভার দাসগ্রামের লিচুটিলাস্থ ছাত্তার মিয়ার বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছে। অন্য আরেক আসামী হাসান (২১)। সে বড়লেখা উপজেলার শাহবাজপুর বোবারগুল এলাকার মোস্তফা উদ্দিনের ছেলে।গ্রেপ্তারকৃত দুজনের মধ্যে মো. লিটন মিয়া মামলার এজাহারভুক্ত আসামী। বুধবার সকালে ধৃত আসামীদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
বিয়ানীবাজার থানার সুত্রে পাওয়া মামলার অনান্য আসামিরা হলেন ছোটদেশ ছুটিয়াংয়ের ইসলাম উদ্দিনের ছেলে তারেক আহমদ (২৩), খাসাড়িপাড়ার নুরুল ইসলামের ছেলে রাসেল আহমদ (২৪), শ্রীধরার মুজিবুর রহমানের ছেলে বক্কর (২৫, স্যানেটারী মিস্ত্রী), একই গ্রামের আনছার আলীর ছেলে আনু (২৩) দিনমজুর ও আজির উদ্দিনের ছেলে ছাদিক আহমদ (৩০) সবজি ব্যবসায়ী, কিশোরগঞ্জ জেলার মিঠামইন থানার হোসাইনপুর গ্রামের (বর্তমানে পৌরশহরের দাসগ্রাম লিচুটিলা ছাত্তার মিয়ার বাড়ীর ভাড়াটিয়া) মো: খলিল মিয়ার ছেলে মো: লিটন মিয়া মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা শাহবাজপুর এলাকার বোবারতল গ্রামের (বর্তমানে সুপাতলা) মোস্তফা উদ্দিনের ছেলে হাসান (২১) নবাং গ্রামের শরফ উদ্দিনের ছেলে জিবান (২২), চট্রগামের বাসিন্দা বর্তমানে সুপাতলার নছরুল্লাহর ছেলে শফিউল্লাহ সাগর (২৮), খাসাড়িপাড়া গ্রামের ফারুক আহমদের ছেলে ফাহাদ আহমদ (২৩) ও চারখাই জালালনগরের হেলাল মিয়ার ছেলে হাসান আহমদ (২৪) সহ অজ্ঞাতনামা আরো ৭-৮জন।
এর আগে গত শনিবার ভোর ৬টার দিকে সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কের বিয়ানীবাজার অংশের চারখাই লালপুর এলাকায় সরকারি নিলাম থেকে কেনা বিয়ানীবাজারের নজরুল ইসলাম নামে এক ব্যবসায়ীর ২৪ লাখ টাকার ৪’শত বস্তা চিনি ও চিনি বহনকারী একটি ট্রাক অস্ত্রের মুখে ছিনিয়ে নিয়ে যায় একদল দুর্বৃত্ত। এরপর থেকে বিষয়টি হয়ে উঠে টক অব দ্যা টপিকে, ঝড় উঠে সমগ্র উপজেলাজুড়ে।
চিনি ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনায় সর্বত্র তোলপাড় শুরু হলেও ঘটনার চারদিন পঅর ৪’শ বস্তার চিনির বৈধ মালিক দাবি করা ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম থানা পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। মামলার এজাহারে ঘটনার সাথে জড়িত ১১ জনের নামোল্লেখ্যসহ অজ্ঞাত আরো ৭-৮ জনকে আসামী করা হয়েছে। এরপরই পুলিশ একাধিক টিমে বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। অবশেষে মঙ্গলবার দুপুরে পৌরসভার সুপাতলার আব্দুর রহমানের বসতবাড়ির পেছনে চারা বাগান থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৮০ বস্তা চিনি এবং একই সাথে চিনি বহনকারি একটি পিকআপ ভ্যান নিদনপুর এলাকার তাজ উদ্দিন মিস্ত্রির বাড়ি থেকে উদ্ধার করে।
গ্রেপ্তারের সত্যতা নিশ্চিত করে বিয়ানীবাজার থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দেবদুলাল ধর বলেন, গ্রেপ্তারকৃত আসামীদেরকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তিনি বলেন, এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে অভিযান চালিয়ে পৌরসভার দুটি স্থান থেকে ৮০ বস্তা চোরাই চিনি ও একটি পিকআপ ভ্যান উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, অভিযানের গোপনীয়তার স্বার্থে অধরা আসামীদের নাম আপাতত উল্লেখ করা হচ্ছে না। তবে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও অবশিষ্ট ৩২০ বস্তা চিনি উদ্ধারে পুলিশ তৎপর রয়েছে। চিনি ছিনতায়ে ছাত্রলীগের কর্মীরা জড়িত বলে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যপক আলোচনা সমালোচনা সৃষ্টি হয় এই বিষয়ে বিয়ানীবাজার উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল হক তাহমিদ বলেন, কারো ব্যক্তিগত অপরাধের দায় ছাত্রলীগ নিবেনা। যারা এইসব ঘটনায় জড়িত আছেন, তাদের দৃষ্টানমুলক বিচার হোক।
উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আহমদ শিপু বলেন, আমরা এমন ঘটনার নিন্দা জানাই। ছাত্রলীগের কেউ এমন ঘটনায় জড়িত থাকলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।







