মামলায় গা ডাকা আওয়ামীলীগ নেতারা, মাঠে জামায়াত-বিএনপি

গত ১৬ বছরে দমন নিপীড়নে কোণঠাসা বিরোধীমতের বিএনপি জামায়াতের জনপ্রতিনিধিরা রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে মাঠে সরব রয়েছেন।পালন করছেন নানা কর্মসূচি ওয়ার্ড থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ে চষে বেড়াচ্ছেন সম্ভাব্য চেয়ারম্যান, এমপি পদ প্রার্থীরা নিয়মিত যোগাযোগ করছে এলাকার নেতা কর্মীদের সাথে মাঠ গোছাতে, বিগত গত ১৬ বছর বিয়ানীবাজারের সর্বত্র আওয়ামী লীগপন্থি জনপ্রতিনিধিদের দাপট ছিল। উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও জেলা পরিষদসহ সর্বত্র ছিল আওয়ামী লীগ নেতাদের বিচরণ।
গত ৫ আগষ্ট সরকার পতনের পর থেকে সারা দেশের মত বিয়ানীবাজারে আওয়ামীলীগ সহ তাদের অংঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মীরা আত্মগোপনে রয়েছেন মামলার কারনে। এর বাইরে, নেতাদের মধ্যে এখনও যারা দেশে অবস্থান করছেন, তাদের প্রায় সবাই ‘আত্মগোপন’ করেছেন।এমন অবস্থায় গত দেড় দশকেরও বেশি সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগে চরম নেতৃত্বশূন্যতা দেখা দিয়েছে। এতে সাংগঠনিকভাবে দলটির রীতিমত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে তৃণমূলের নেতারা।
তাদের অনেকেই এখন উদ্বেগ ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। আওয়ামী লীগ এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন। কেন্দ্র থেকে কার্যকর কোনো নির্দেশনা না থাকায় “আমাদের দলের এখন দিশাহারা বিপর্যস্ত অবস্থা হয়ে গেছে। ৩মাস হয়ে গেলো হামলা-মামলা সব মিলিয়ে নেতাকর্মীরা হতাশ হয়ে পড়েছেন নেতা কর্মীরা ব আওয়ামী লীগের জেলা পর্যায়ের একজন নেতা। বলেন পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, নেতাকর্মীদের অনেকে রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের এখনকার যে অবস্থা দেখা যাচ্ছে, সেটার জন্য দলের সিনিয়র নেতাদের দায়ী করছেন তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা। বিগত সরকারের এমন অবস্থা নিয়ে।
বিয়ানীবাজার পৌর জামায়াতের আমীর কাজী জমির হোসাইন জানান, গত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে সাজানো মামলায় একাধিকবার কারাবরণ করেন মুড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান ফরিদ আহমদ ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবুল খায়ের। নামে-বেনামে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়। এরপরও আমরা প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে কারও বিরুদ্ধে মামলা দিচ্ছি না।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে বিয়ানীবাজার উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছরওয়ার হোসেন বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে ভিন্নমত দমনে বিরোধীমতের জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে নির্যাতনের স্টিম রুলার চালানো হয়েছে। এরপরও আমরা ধৈর্য্য ধরে আছি। সূত্র জানায়, যে সব জনপ্রতিনিধি মামলার আসামি এবং এখনও বহাল আছেন, তাদের গ্রেপ্তারে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মামলা ও গ্রেফতার সংক্রান্ত বিষয়ে বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী বলেন, জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার তদন্ত চলছে। নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্দেশনা পাওয়ার পরই গ্রেপ্তার অভিযানের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জ আসনের এমপি হিসেবে টানা ১৬ বছর দায়িত্ব পালন করেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। তার বিরুদ্ধে ৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
৫ আগস্টের পর থেকে তিনি লাপাত্তা। সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কাশেম পল্লব ৬টি মামলায় আসামি হয়ে আছেন আত্মগোপনে। সরকার পতনের পর শহরে মিছিল করে নিজের অবস্থান জানান দিতে গিয়ে বেকায়দায় পড়েন তিনি। উপজেলা পরিষদ, বিয়ানীবাজার পৌর সভা ও জেলা পরিষদ বাতিল হওয়ার পর বিয়ানীবাজারের জনপ্রতিনিধি, সিলেট মহানগর বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের নেত্রী মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জেসমিন নাহার সিলেটে নিজের বাসায় অবস্থান করলেও বিয়ানীবাজার পৌরসভার মেয়র ফারুকুল হক পদ থেকে অপসারণের দিনই লন্ডন চলে যান। তার বিরুদ্ধে একটি হত্যামামলা রয়েছে। এবং সিকেট জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য খসরুল হক হত্যা মামলার আসামী হয়ে তিনিও যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। ২টি মামলার আসামি হয়ে আলীনগর ইউপি চেয়ারম্যান আহবাবুর রহমান খান শিশু কানাডায় রয়েছেন। চারখাই ইউপি চেয়ারম্যান হোসেন মুরাদ সিলেট নগরীতে একটি হত্যামামলায় র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হন। বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন।শেওলা ইউপি চেয়ারম্যন জহুর উদ্দিন ও মাথিউরা ইউপি চেয়ারম্যান আমান উদ্দিনের বিরুদ্ধে হত্যামামলা হয়েছে। তবে তারা অতি গোপনে দাপ্তরিক কাজকর্ম সারছেন।







