সারাদেশে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও বিচারবহির্ভূত হত্যার প্রতিবাদে উত্তাল বড়লেখা
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সিলেট মহানগরীর সাবেক সদস্য সচিব তামিম আহমেদ বলেছেন, সারাদেশ যখন ঐক্যবদ্ধ তখন একটি দল সেই ঐক্যের মধ্যে ফাটল ধরানোর চেষ্টা করছে। তারা সং্খ্যা করছে যদি এদেশের আপামর ছাত্রজনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে যায় তাহলে তারা চাদাবাজি করতে পারবে না। নব্য ফ্যাসিজম যদি তৈরি করতে চান তাহলে আওয়ামী লীগের চেয়েও আরো খারাপ পরিণতি হবে। আমরা দেখতে পেয়েছি জুলাই ঘোষণাপত্রে কারা বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং ঐক্যমত নীতিতে দেশের জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে সেখানেও কারা বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে পাশবিক কায়দায় ভাঙারি ব্যবসায়ী সোহাগ হত্যাকাণ্ড এবং দেশব্যাপী চলমান চাঁদাবাজি, ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে শনিবার (১২ জুলাই) মৌলভীবাজারের বড়লেখায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে দুপুর ২টায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, কাদের মদদে চাদাবাজি, টেন্ডারবাজি, খুন চলছে তাও আমরা জানি। আপনার দলকে যদি আপনি কন্ট্রোল করতে না পারেন তাহলে এদেশের ১৭ কোটি মানুষকে কিভাবে কন্ট্রোল করবেন। সারা দেশে পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও বিচারবহির্ভূত হত্যার মাধ্যমে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। এসব ঘটনায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরাও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
বড়লেখা উপজেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছাত্রনেতা আবু হাসানের পরিচালনায় মিছিলে বড়লেখা সরকারি কলেজ ও মোহাম্মদিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদরাসার সাধারণ শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে।
এসময় মিছিলে ‘ওয়ান টু থ্রি ফোর, চাঁদাবাজ নো মোর’, ‘দিয়েছি তো রক্ত, আরও দেব রক্ত’, ‘রক্তের বন্যায়, ভেসে যাবে অন্যায়’, ‘চব্বিশের বাংলায়, চাঁদাবাজের ঠাঁই নাই’, ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে’, ‘চাঁদাবাজের কালো হাত, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’, ‘চাঁদাবাজের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না’, ‘আবু সাঈদ-মুগ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধ’, ‘লেগেছে রে লেগেছে, রক্তে আগুন লেগেছে’ ‘লন্ডন না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’ ‘হৈ-হৈ, রৈ-রৈ চাদাভাজ গেলি কই’ ‘চাদাবাজি আর করিস না, পিঠের চামড়া তুলিস না’ ‘এ্যাকশন এ্যাকশন ডাইরেক্ট এ্যাকশন’ ইত্যাদি স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত হয় রাজপথ।
মিছিলে অংশ নেওয়া এক শিক্ষার্থী রায়হান আহমদ বলেন, মধ্যযুগীয় কায়দায় যেভাবে ব্যবসায়ী সোহাগকে হত্যা করা হয়েছে, তা আইয়ামে জাহেলিয়াতের নিকৃষ্ট যুগকেও হার মানিয়েছে। এর সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে দ্রুত সময়ের মধ্যে ফাঁসিতে ঝোলানোর ব্যবস্থা করতে হবে। যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন অপরাধ করার সাহস না পায়।
কলেজ শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান বলেন, একজন ব্যবসায়ী ভাইকে চাঁদা না দেওয়ার কারণে এদেশের একটি সন্ত্রাসী দল যেভাবে তার মাথায় পাথর নিক্ষেপ করে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে তা দেখে যে কারো গা শিওরে ওঠে। জুলাইয়ে আমরা যুদ্ধ করে ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে বিতাড়িত করেছি। আপনারা যদি কেউ হাসিনা হতে চান তাহলে মনে রাখবেন জুলাই যোদ্ধারা ঘরে ফিরে যায়নি প্রয়োজনে নতুন ফ্যাসিবাদের কবর রচনা করে ঘরে ফিরবো।
শিক্ষার্থী আব্দুস সামাদ বলেন, জুলাই গণ অভ্যুত্থানের পর একটি দল সারাদেশে চাদাবাজি, রাহাজানি ও হত্যার মাধ্যমে দেশকে জাহান্নামে পরিণত করছে। আমারা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে চাই জুলাইয়ের ছাত্রসমাজ যতদিন আছে আপনাদের সেই স্বপ্ন পূরণ হবেনা। সারা দেশে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্পিরিটকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে একটি সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
বড়লেখা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী আশরাফ মাহমুদ রাহি বলেন, লোকজন এখন আপনাদের বলছে এক দলের অনেক গুণ দশ মাসে দেড়শো খুন। আবু সাঈদ থেকে শুরু করে জুলাইয়ের দুই হাজার শহীদ তাদের জীবন দিয়েছে নতুন করে কোন ফ্যাসিবাদকে বাংলাদেশের ময়দান ছেড়ে দেওয়ার জন্য নয়। এই বাংলায় আবার কেউ যদি অতীতের মতো ফ্যাসিবাদী হয়ে উঠতে চায়, তবে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ঘরে বসে থাকবে না।
এদিকে বিক্ষোভ সমাবেশে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা অংশ নেন। তারা এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচারের দাবি জানান।








