সিলেটে পর্যটকদের ঢল, হোটেল-মোটেলে ছিলো রুম সংকট
শারদীয় দুর্গাপূজার ছুটিকে কেন্দ্র করে সিলেটে নেমেছে পর্যটকদের ঢল। প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য— পাহাড়, নদী, ঝরনা আর পাথরের টানে ভ্রমণপিপাসুরা ভিড় জমিয়েছেন সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রে। এতে হোটেল-মোটেলগুলোতে দেখা দিয়েছে তীব্র রুম সংকট।
হোটেল-মোটেল ব্যবসায়ী ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ দিন ধরেই পর্যটকেরা ফোন ও অনলাইনের মাধ্যমে বুকিং দিয়ে রাখছেন কক্ষ। বিশেষ করে অভিজাত হোটেল ও রিসোর্টগুলোতে কক্ষ মিলছে না একেবারেই। এমনকি মাঝারি মানের হোটেলগুলোও শতভাগ বুক হয়ে গেছে। ফলে নতুন করে আসা পর্যটকদের ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন হোটেল মালিকরা।
বর্তমানে সিলেট বিভাগে প্রায় ৫ শতাধিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট রয়েছে। এর বেশিরভাগই পর্যটকনির্ভর। শারদীয় ছুটিতে প্রতিদিনই জাফলং, সাদাপাথর, রাতারগুল ও বিছনাকান্দিতে নামছে পর্যটকের ঢল।
হোটেল-মোটেল ও গেস্ট হাউস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুমাত নুরী জুয়েল জানান, এনসিল (জাতীয় বিজ্ঞান শিক্ষার সম্মেলন)-এর কারণে সিলেটের হোটেলগুলোতে প্রায় ২০০ কক্ষ ১২ অক্টোবর পর্যন্ত অগ্রিম বুকিং রয়েছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে পূজার ছুটি। ফলে গোয়াইনঘাট, জাফলংসহ আশপাশের এলাকায় পর্যটকের উপচেপড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে।
প্রকৃতির কন্যা জাফলংয়ে সবচেয়ে বেশি ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ভ্রমণকারীরা নৌকায় করে ঘুরে দেখছেন খাসিয়াপল্লি, চা-বাগান ও ঝুলন্ত ব্রিজ। কেউ ছবি তুলছেন, কেউবা নদীর ধারে বসে সময় কাটাচ্ছেন। মেঘলা আকাশ ও ঝিরিঝিরি বৃষ্টির আবহ ভ্রমণপিপাসুদের আনন্দকে করেছে বহুগুণে বাড়িয়ে।
কক্ষ সংকটে পড়লেও উৎসবমুখর ভিড়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। রেস্টুরেন্ট, ফটোগ্রাফার, দোকানি ও নৌকার মাঝিদের কাজ বেড়েছে কয়েকগুণ। হোটেলে জায়গা না পেয়ে অনেক পর্যটক বিকল্প গেস্ট হাউস ও লজে অবস্থান করছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দুর্গাপূজার ছুটিকে কেন্দ্র করে পর্যটকের এ ভিড় সিলেটের পর্যটন খাতে নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছে। এতে একদিকে ব্যবসায়ীরা লাভবান হচ্ছেন, অন্যদিকে ভ্রমণকারীরাও পাচ্ছেন প্রকৃতির টানে স্মরণীয় সময় কাটানোর সুযোগ।







