সিলেটে প্রধানমন্ত্রী জনসভায় জড়ো হচ্ছেন নেতাকর্মীরা

দীর্ঘ পাঁচ বছর পর সিলেটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভা উপলক্ষে কয়েক দিন ধরে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মী, সমর্থকদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত এই জনসভা বুধবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুরে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সকাল থেকে জনসভাস্থলের আশপাশে নেতা-কর্মীরা আসতে শুরু করেছেন।
ইতোমধ্যে সিলেটে পৌঁছেছেন তিনি। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৬০১ ফ্লাইটে তিনি সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরে পৌঁছান।
দলীয় সূত্র জানায়, বিমানবন্দর থেকে শেখ হাসিনা গাড়িবহর নিয়ে হজরত শাহজালাল (র.) ও হজরত শাহপরানের (র.) মাজার জিয়ারত শেষে সার্কিট হাউসে অবস্থান করবেন। পরে বিকেল ৩টার দিকে সিলেট নগরের আলিয়া মাদরাসা ময়দানে জেলা ও মহানগর আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী।
এদিকে সকালে সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আশপাশের এলাকা, চৌহাট্টা, রিকাবীবাজারসহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের জড়ো হতে দেখা গেছে। সেখান থেকে দলে দলে তারা জনসভাস্থল সিলেট নগরের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আসছিলেন। বেলা বাড়ার সাথে সাথে বাড়ছে নেতা-কর্মীদের ভিড়। খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে তারা জড়ো হচ্ছেন সিলেট নগরের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে। মঞ্চ, সমাবেশস্থল ও আশপাশ এলাকায় উতসবের পরিবেশ বিরাজ করছে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা প্রতিবারই সিলেট থেকে শুরু করেন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা শুরু করতে আজ তিনি সিলেটে এসেছেন। হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.) মাজার জিয়ারত শেষে আলিয়া মাদ্রাসার মাঠে জনসভার মাধ্যমে প্রচারণা শুরু করবেন শেখ হাসিনা।
আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার সিলেটে নির্বাচনী প্রচারণার জনসভায় সর্বাধিক মানুষের উপস্থিতির প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সিলেট বিভাগের চার জেলায় দলীয় মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীদের পাশাপাশি সিলেট সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে দল থেকে নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে।
শেখ হাসিনার জনসভায় যোগ দিতে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থান থেকে গাড়ি করে স্লোগান দিতে দিতে বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী নগরীতে আসছেন। সমাবেশস্থলের চারপাশে বাঁশ দিয়ে শক্ত বেষ্টনী গড়ে তোলা হয়েছে। নেতা-কর্মীদের সমাবেশস্থলে ঢোকার জন্য পৃথক লেন রয়েছে।
সিলেট নগরীর ওয়ার্ডসমূহ ছাড়াও জেলার সকল উপজেলা, এমনকি পার্শ্ববর্তী সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলা থেকেও নেতা-কর্মীরা জনসভায় অংশ নিতে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে আসছেন।
এদিকে জনসভাস্থল ও আশপাশের এলাকায় ১০ লাখের বেশি জনসমাগম করার কথা জানিয়েছেন দলের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা। এ লক্ষ্যে বেশ আগে থেকে দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা প্রচার–প্রচারণা চালিয়ে আসছেন। জনসভা সফল করতে ও জনসমাগম ঘটাতে দলের পক্ষ থেকে জেলা, উপজেলা, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে মাইকিং, পোস্টার ও প্রচারপত্র বিলি করা হয়েছে।
সর্বশেষ গত বছরের ২১ জুন বন্যার্তদের দেখতে সিলেট ও সুনামগঞ্জ সফর করেন শেখ হাসিনা। এ সময় তিনি সিলেট সার্কিট হাউসে এক মতবিনিময় সভায়ও অংশ নেন। তবে ২০১৮ সালের পর আজই প্রধানমন্ত্রী সিলেটে কোনো জনসভায় ভাষণ দেবেন।







