বিশ্বনাথের গোয়াহরি বিল ঝপঝপ শব্দে মুখরিত

সিলেটের বিশ্বনাথে বিপুল উৎসাহে উদ্দিপনায় উদযাপিত হলো আবহমান বাংলার ঐতিহ্যবাহী পলো বাওয়া উৎসব। ঝপ ঝপ শব্দের তালে তালে আজ সোমবার ১৫ জানুয়ারি উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের গোয়াহরি গ্রামের বড় বিলে বার্ষিক পলো বাওয়া উৎসব পালিত হয়েছে।শিকড়ের সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যের টানে প্রতি বছর আয়োজন করা হয় এই উৎসবের। বাঁশ আর বেতের তৈরি পলো ও ঠেলা জাল দিয়ে শীত আর হিমেল হাওয়া উপেক্ষা করে এক সাথে মাছ শিকার গ্রামবাসীর প্রধান এক আনন্দ উৎসব।
যা যুগ যুগ ধরে চলে আসা মাছ ধরার উৎসবে গোয়াহরি গ্রামের সকল শ্রেণীপেশার মানুষের সাথে তাদের আত্মীয় স্বজন, ছেলে মেয়ে এবং এলাকার অনেকেই অংশগ্রহন করেন আনন্দ উল্লাসের মধ্য দিয়ে। প্রবাসী অধ্যুষিত বিশ্বনাথ উপজেলার এই পলো বাওয়া উৎসব উদযাপন করতে বিশ্বনাথের অনেক প্রবাসীদের কে দেখা গেছে বিলের পারে মাছ ধরার আনন্দ উপভোগ করছেন। প্রতি বছর মাঘ মাসের প্রথম দিন এই পলো বাওয়া উৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। পলো দিয়ে ঝাপিয়ে বড় মাছ শিকারের পাশাপাশি ছোট মাছ শিকারের জন্য অনেকেই ছোট ছোট জাল ব্যবহার করেন। সংরক্ষিত এই বিলে বিভিন্ন প্রজাতীর মাছের মধ্যে বোয়াল, রুই, কার্প, সউল, গজারের পাশাপাশি মলা, পুঁটি, টেংরা সহ নানান প্রজাতীর দেশীয় মাছ শিকার করতে দেখা যায়।
সরজমিনে আজ দেখা গেছে উৎসবের চিত্র। পলো দিয়ে অনেকেই বড় মাছ শিকার করতে পারলেও অনেকেই বড় মাছের নাগাল না পেয়ে ছোট মাছ শিকারে ব্যস্থ রয়েছেন। একাধিক শিকারী জানান আগের মত মাছের আধিক্য নেই, তার পরও ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে তারা এই উৎসবে যোগ দেন প্রতি বছর। শিমুল নামের এক পলো শিকারী একি সাথে দুটি বোয়াল মাছ ধরে বেশ উৎফুল্লতার সাথে বলেন এটি আমি প্রায় পঁচিশ বছর যাবত ধরে করে আসছি।
প্রতি বছরই ছোট বড় কোন না কোন মাছ ধরতে সক্ষম হই। এই উৎসবের দিন আসলে বাড়িতে একাধিক আত্মীয় স্বজন আসেন এতে আমরা খুব আনন্দ উপভোগ করি। ষাটোর্ধ আনফর আলী প্রবাস থেকে এসেছেন উৎসব উপভোগ করতে। তিনি বিলের পাড়ে বসে মাছ শিকারের দৃশ্য দেখে খুবই আনন্দিত। তারা চান এই ধারাবাহিকতা আরো বহুকাল অব্যাহত থাকুক এলাকার মানুষের মাঝে। এতে সম্প্রীতির বন্ধন দৃঢ় হওয়ার পাশাপাশি এলাকায় শান্তির সুবাতাস থাকবে বিরাজিত।







