২৫ পরিবারের বাঁচার লড়াই-পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে সাতছড়ির ত্রিপুরা পল্লী
হবিগঞ্জের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের ভেতরে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ত্রিপুরা পল্লী এখন বিলীনের আশঙ্কায়। টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ছড়ার তীব্র ভাঙনে ধসে পড়ছে পল্লীর বসতভিটার টিলা। এতে হুমকির মুখে পড়েছে মানুষের জীবন-জীবিকা। ইতোমধ্যে ভাঙনের কবলে পড়ে ভিটেমাটি হারিয়েছে অন্তত পাঁচটি পরিবার। বর্তমানে ঝুঁকিতে রয়েছে আরও প্রায় ২৫টি পরিবার।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম এলেই বাড়তে থাকে পাহাড় ধস ও ভাঙনের ভয়। টানা বর্ষণ এবং পাহাড়ি ছড়ার পানির তোড়ে টিলার মাটি ধসে পড়ে বসতভিটার অংশ বিলীন হয়ে যাচ্ছে। অনেক বাড়ির পাশ পর্যন্ত চলে এসেছে ভাঙন। এতে আতঙ্কে দিন কাটছে পল্লীর বাসিন্দাদের। পল্লীবাসীর দুর্ভোগ আরও বাড়িয়েছে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা। পল্লী থেকে বের হওয়ার একমাত্র ব্রিজটির একাংশ ধসে পড়ায় কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে পুরো জনপদ। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, অসুস্থ রোগী ও বয়স্ক মানুষদের চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বৃষ্টি বাড়লেই বাইরের সঙ্গে যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
ত্রিপুরা পল্লীর বাসিন্দা শাহিন দেব বর্মন বলেন, বৃষ্টি হলেই আমরা আতঙ্কে থাকি। কখন পাহাড় ধসে পড়ে, কখন ঘরবাড়ি ভেঙে যায় সেই ভয় নিয়েই থাকতে হয়। ব্রিজটাও ভেঙে গেছে, এখন চলাচল খুব কষ্ট হয়ে গেছে। ত্রিপুরা পল্লীর হেডম্যান চিত্তরঞ্জন দেববর্মা জানান, ২০০১ সাল থেকে শুরু হওয়া পাহাড় ধস ও ভাঙনে ইতোমধ্যে অন্তত পাঁচটি পরিবার এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। বর্তমানে আরও ২৫টি পরিবার ঝুঁকিতে রয়েছে। তিনি বলেন, এই পাহাড়েই আমাদের জন্ম, এই পাহাড়েই মরতে চাই। আমরা কোথাও যেতে চাই না। সরকার যদি দ্রুত ব্রিজ নির্মাণ ও গাইডওয়াল করে দেয় তাহলে হয়তো পল্লীটিকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।
বন বিভাগ জানিয়েছে, ত্রিপুরা পল্লীর বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে কমিউনিটি পেট্রোলিং গ্রুপের সদস্য হিসেবে বন রক্ষায় কাজ করছেন। তাই তাদের নিরাপত্তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা রক্ষা করাও গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় রেঞ্জ কর্মকর্তা মেহেদি হাসান বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ভেঙে যাওয়া ব্রিজ ও ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
এদিকে চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গালিব চৌধুরী জানান, ভাঙন রোধ ও ব্রিজ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। আমি নতুন যোগদান করেছি, সরেজমিন পরিদর্শনের পর টেকসই অবকাঠামো এবং গাইডওয়াল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রকৃতির সৌন্দর্যে ঘেরা সাতছড়ির এই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জনপদ এখন সময়ের সঙ্গে লড়ছে অস্তিত্ব রক্ষার যুদ্ধ। দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে একসময় মানচিত্র থেকেই হারিয়ে যেতে পারে ঐতিহ্যবাহী ত্রিপুরা পল্লী।







