২৫০ বছরের পুরনো পোদ্দার জমিদার বাড়ি সংরক্ষণের দাবি
পোদ্দার জমিদার বাড়ি। প্রায় ২৫০ বছরের পুরোনো এই জমিদার বাড়ির অবস্থান কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার হাসনাবাদ ভিটিকান্দি গ্রামে। উপজেলা সদর থেকে বাড়িটির দূরত্ব পাঁচ কিলোমিটার। এক সময় শত শত লোকের কোলাহল থাকলেও কালের বিবর্তনে আজ বাড়িটিতে নিস্তব্ধতা নেমে এসেছে। সংস্কারের অভাবে বাড়িটি এখন জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ঐতিহ্য বহন করা জমিদার বাড়িটি সংস্কারের মাধ্যমে সংরক্ষণের দাবি ইতিহাসপ্রেমী ও স্থানীয়দের।
পোদ্দার জমিদার বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, কোথাও কোথাও খসে পড়েছে দেয়ালের পলেস্তারা। ভেঙে পড়েছে ছাদও। এ ছাড়া দেয়ালে জন্মেছে পরগাছা। পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে বাড়িটি। বহু আগেই জমিদার বাড়ির মঠগুলো ও প্রধান ফটকের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২৫০ বছর আগে তৎকালীন জমিদার শ্রীরাম পোদ্দারের আমলে বাড়িটি নির্মিত হয়। ধারণা করা হয়, প্রায় ১৫ একর জমির ওপর জমিদার শ্রীরাম পোদ্দার বাড়িটি নির্মাণ করেন। বাড়ির চারদিকে ছিল দেওয়ালে ঘেরা। ভেতরে বেশ কয়েকটি মঠও ছিল। বাড়ির ভেতরে প্রবেশের জন্য ছিল প্রধান ফটক। ছিল বিচারালয়, কাছারিঘর ও জলসাঘর। বাড়িটির মূল ভবন ছাড়া বাকি সব স্থাপনা বিলীন হয়ে গেছে অনেক আগেই। এলাকার প্রভাবশালী মহল অনেক জায়গা দখলে নিয়েছে।
ইতিহাসপ্রেমী ও স্থানীয়দের মতে, সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে জরাজীর্ণ হয়ে ধ্বংসের মুখে পড়েছে বাড়িটি। এখনই যদি এর রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার না হয়, তাহলে যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে। এতে চিরদিনের জন্য হারিয়ে যেতে পারে ইতিহাস-ঐতিহ্য বহন করা জমিদার বাড়িটি। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে কালের নিদর্শন হিসেবে তুলে ধরার জন্য বাড়িটি দ্রুত সংস্কার ও সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন জমিদারের বংশধর ও স্থানীয়রা।
স্থানীয় আবদুর রহিম মিয়া বলেন, ‘জমিদার বাড়িটি নাকি তাদের বংশধররা স্থানীয় এক মুসলিম লোকের কাছে বিক্রি করে দিয়ে গেছেন। কিন্তু আমার বাপ দাদার মুখে এই জায়গা বিক্রি করার কথা শুনিনি। জমিদার বাড়ির জায়গা একে একে দখল হয়ে যাচ্ছে।’
জমিদারের বংশধর নিপেন্ড পোদ্দার বলেন, ‘আমি বর্তমানে ঢাকায় থাকি। এই জমিদার বংশের ছেলে আমি। আমার বাবা নিখিল পোদ্দার। এখানে জলসাঘর, কাছারিঘর এবং বিচারঘর ছিল। আজ সব হারিয়ে গেছে। এখন শুধু বাড়িটিই আছে। প্রতিবছর এখানে দোল উৎসব হতো। তবে এখন আর তেমন একটা হয় না। ইতিহাস ও ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য বাড়িটি সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি।’
স্থানীয় মো. হোসেন সিকদার বলেন, ‘বাপ দাদার মুখে শুনেছি এই জমিদার বাড়ির গল্প। বর্তমানে জমিদার বাড়িটি আমাদের এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্য। এটা সরকারি বা বেসরকারি যেভাবেই হোক রক্ষা করার দাবি জানাই। বাড়িটি কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এটা আমাদের সম্পদ। এটা আমাদের ঐতিহ্য।’
পরিবেশবিদ অধ্যাপক মতিন সৈকত বলেন, ‘কুমিল্লার দাউদকান্দিসহ বিভিন্ন উপজেলায় অনেক ঐতিহ্য ধ্বংস হয়ে গেছে। এগুলো রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব। এগুলো একবার হারিয়ে গেলে আর কোনোদিন ফিরে পাওয়া যাবে না। তাই উপজেলার ২৫০ বছরের পুরোনো জমিদার বাড়িটি সংস্কারের পাশাপাশি রক্ষার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাছরীন আক্তার বলেন, ‘আমি কয়েক মাস আগে এই উপজেলায় যোগদান করেছি। জমিদার বাড়ি সমন্ধে আমার ধারণা নেই। সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনের পর এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে বাড়িটির ইতিহাস-ঐতিহ্য ও নিদর্শন ধরে রাখার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’






