৪০ কোটি টাকার কাজ ৮৭ কোটি টাকার প্রকল্প, সড়ক সংস্কারে অনিয়মের তদন্তের দাবি জেলা বিএনপির
সুনামগঞ্জ-কাছিরগাতি-বিশ্বম্ভরপুর সড়কের লালপুর-সালামপুর সেতু ও সংলগ্ন সড়ক সংস্কার কাজের ব্যয় ৪০ কোটি টাকা স্থলে ৮৭ কোটি টাকা প্রাক্কলনসহ নির্মাণ কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার, ত্রুটিপূর্ণ নির্মাণ, প্রকল্প বাস্তবায়নে গাফিলতিসহ ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ লুটপাটের অভিযোগ তুলেছে সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপি।
এছাড়াও এরই মধ্যে প্রায় ৩৮ কোটি টাকা বিল উত্তোলন করা হয়েছে জানিয়ে সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে সুনামগঞ্জে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়েছে।
জেলা বিএনপি আয়োজনে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন ও সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল হকের স্বাক্ষরিত লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ উল্লেখ্য করে প্রকল্পের ব্যয় পুনর্মূল্যায়ন, নিম্নমানের কাজ বাতিল এবং অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে দলটি। এসময় ৫ দফা দাবি তুলে ধরা হয়।
লিখিত বক্তব্যে কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন বলেন, ২০২২ সালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, সেতু ও কালভার্ট পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় লালপুর-সালামপুর সেতুর দুটি অংশ এবং প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার ও গার্ডওয়াল নির্মাণের জন্য ৮৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইসলাম ট্রেডার্স প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। তবে প্রকল্পের ব্যয় প্রাক্কলন, নির্মাণসামগ্রীর মান, কাজের গুণগত মান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, প্রায় ৪০ কোটি টাকার কাজের বিপরীতে ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে প্রায় ৮৭ কোটি টাকা। ইতোমধ্যে প্রায় ৩৮ কোটি টাকার বিলও উত্তোলন করা হয়েছে। এ অবস্থায় প্রকল্পের প্রকৃত ব্যয় ও কাজের পরিমাণ যাচাই করে পূর্ণাঙ্গ পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছে জেলা বিএনপি।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রকল্পের ব্যয় পুনর্মূল্যায়ন, অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা, নিম্নমানের নির্মাণকাজ বাতিল,সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইসলাম ট্রেডার্সের অন্যান্য প্রকল্পের কাজও তদন্ত করা।
বিএনপির অভিযোগ ও দাবী করে তারা জানায়,নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই একটি গার্ডওয়াল হেলে পড়েছে। ব্লক নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার, মাটি যথাযথভাবে কমপ্যাকশন না করা এবং ভিট বালুর পরিবর্তে কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি ব্যবহারের মতো অনিয়ম করা হয়েছে। এসব কারণে নির্মাণ কাজের স্থায়িত্ব ও প্রকল্পের অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।
প্রকল্পের কাজ পরিদর্শনে গিয়ে সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুলের বিরুদ্ধে সাব-ঠিকাদার শফিকুল ইসলামের করা অভিযোগকে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে দলটি।
সংবাদ সম্মেলনে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল, জেলা বিএনপির সদস্য অ্যাডভোকেট শেরেনূর আলী, অ্যাডভোকেট মাসুক আলম, নাদির আহমদ, রেজাউল করিম, আতম মিসবাহ, আকবর আলীসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।








