আ.লীগের নাম জড়িয়ে পঞ্চায়েত কমিটি বাতিলের অভিযোগ
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া চা বাগান-এর পূর্বের পঞ্চায়েত কমিটি বাতিল করে নতুন এডহক কমিটি গঠনের অভিযোগ উঠেছে বাগান ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাগান এলাকায় উত্তেজনা ও বিভক্তির সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) পূর্বের কমিটি বাতিল করে নতুন এডহক কমিটি গঠনের চিঠি প্রকাশের পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর আগে সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) কমিটি বাতিল ও নতুন কমিটি গঠনের প্রতিবাদে চা শ্রমিকরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। শ্রমিকদের দাবি, নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত কমিটি কোনো ভোট ছাড়াই বাতিল করে এডহক কমিটি গঠন বেআইনি এবং এখতিয়ার বহির্ভূত।
অভিযোগ রয়েছে, কৃষক লীগ ও শ্রমিক লীগের সংশ্লিষ্টতার কথা উল্লেখ করে বাগান ব্যবস্থাপক দেওয়ান বাহাউদ্দিন আহমেদ পূর্বের কমিটি বাতিল করেন। নতুন এডহক কমিটিতে হেমন্তী তাঁতীকে সভাপতি এবং শাজাহানপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য সাইমন মুর্মুকে উপদেষ্টা করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের পর বাগানে দুটি পক্ষের সৃষ্টি হয় এবং উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। সোমবার বাগান ব্যবস্থাপকের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, পঞ্চায়েত কমিটি সাধারণত নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত হয়—সেক্ষেত্রে একজন ব্যবস্থাপক কীভাবে নতুন কমিটি গঠন করেন? কমিটি গঠনের চিঠির অনুলিপি জেলা পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হলেও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের তথ্য উল্লেখ নেই বলে অভিযোগ উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শ্রমিক নেতা অভিযোগ করেন, ব্যবস্থাপক প্রায়ই শ্রমিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং তার বিরুদ্ধে গাছ ও চা পাতা পাচারের অভিযোগ রয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় নারী উদ্যোক্তা চাঁদ সুলতানা শাবানা বলেন, রাজনৈতিক অজুহাতে একটি পক্ষকে সুবিধা দিয়ে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা বাগানে অস্থিরতা তৈরি করেছে।
এ বিষয়ে বাগান ব্যবস্থাপক দেওয়ান বাহাউদ্দিন আহমেদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “কিছু বিচ্ছিন্ন ব্যক্তি আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে এবং তারা হামলায় জড়িত। বিষয়টি নিয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে তিনি জানান, এটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী হয়েছে।
শ্রম অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মহব্বত হোসেন বলেন, শ্রমিকদের সঙ্গে বিধিবহির্ভূত কোনো আচরণ বা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ পেলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তেলিয়াপাড়া চা বাগানের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে বলে তিনি জানান।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।






