হবিগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ৫ প্রতিষ্ঠানে জরিমানা
নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে হবিগঞ্জ জেলা সদর উপজেলা ও পৌর এলাকায় শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকাল ৩টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের দায়ে মোট ৫টি খাদ্য প্রতিষ্ঠানে ৯০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
শহরের পশ্চিম ভাদৈ এলাকার গ্র্যান্ড নবাব রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড পার্টি সেন্টার -কে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। রেস্টুরেন্টটিতে ফ্রিজে রান্না করা ও কাঁচা খাবার একসাথে সংরক্ষণ, বাসি বিরিয়ানি, পোলাও ও ফ্রাইড চিকেন ফ্রিজে রেখে বিক্রির প্রস্তুতি, রান্নাঘরে ঢাকনাবিহীন ডাস্টবিন ব্যবহার, নিষিদ্ধ কেওড়া জল ব্যবহার এবং রান্নার সময় পত্রিকার কাগজ ব্যবহারের মতো গুরুতর অনিয়ম ধরা পড়ে।
অভিযান পরিচালনা করেন হবিগঞ্জের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাকির হোসেন টিপু -এর নির্দেশনায় বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শাহেদুল আলম । অভিযানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ হবিগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের নিরাপদ খাদ্য অফিসার মো. শাকিব হোসাইন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর হবিগঞ্জের সহকারী পরিচালক শ্যামল পুরকায়স্থ, জেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টরসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। এছাড়া র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-৯, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরাও অভিযানে সহযোগিতা করেন। অভিযানে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোও বিভিন্ন ধরনের অনিয়মে জরিমানা করা হয়েছে।
নোভা সুপারশপ: মূল্য তালিকা ও পণ্যের দামের অসামঞ্জস্য ও বিদেশি খেজুরে আমদানিকারকের স্টিকার না থাকার জন্য ৫ হাজার টাকা।
কাচ্চি ডাইন: লেবেলবিহীন বোরহানি বিক্রি ও ফ্রিজে কাঁচা মাংস সংরক্ষণে অনিয়মের জন্য ১০ হাজার টাকা।
কিউরিয়াস রেস্টুরেন্ট: নোংরা পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন, বিদেশি সস ও মসলায় স্টিকার না থাকা ও ফ্রিজে বাসি খাবার সংরক্ষণের দায়ে ৫ হাজার টাকা।
আরেকটি প্রতিষ্ঠানকে পোড়া তেল ব্যবহার, নিষিদ্ধ কেওড়া ও গোলাপ জল ব্যবহার, পচা ও বাসি খাবার সংরক্ষণ, মেয়াদোত্তীর্ণ ভিনেগার ব্যবহার এবং অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে ডিম সংরক্ষণের জন্য ২০ হাজার টাকা। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে চালানো হবে।







