সুনামগঞ্জে প্রেমের বিয়ে, ৫ মাসেই প্রেমিক যুগলের সলিল সমাধি
দীর্ঘদিন প্রেমের সম্পর্ক এর পর প্রেমিক মাহফুজ মিয়া (১৯) ও প্রেমিকা মনিকা বেগম (১৮) সর্ম্পক গড়া বিয়েতে। পরিবারের অজান্তে বিয়ে করার পর মেনে নেয় দুই পরিবার। প্রেম করে বিয়ের পাঁচ মাস না পেরুতেই স্বামী-স্ত্রীর একসঙ্গে বিষপানে আত্মহত্যার ঘটনায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। তাদের মধ্যে কি এমন ঘটনা ঘটেছে যে আত্মহত্যার পথ বেছেঁ নিয়েছে। তবে পুলিশ এর কারন জানতে পারেনি। এমনি ঘটনা ঘটেছে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার রফিনগর ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামে।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) সকাল ৯টার দিকে ওই গ্রামে মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে।
নিহতরা হলেন-উপজেলার রাফিনগর ইউনিয়নের বাংলাবাজার আনোয়ারপুর গ্রামের মোর্শেদ মিয়ার মেয়ে মনিকা বেগম (১৮) ও মির্জাপুর গ্রামের আজিজুর রহমানের ছেলে মাহফুজ মিয়া (১৯)।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, একই ইউনিয়নের বাংলাবাজার আনোয়ারপুর গ্রামের মোর্শেদ মিয়ার মেয়ে মনিকা বেগম (১৮) ও মির্জাপুর গ্রামের আজিজুর রহমানের ছেলে মাহফুজ মিয়ার (১৯) মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। গত ৫ মাস পূর্বে তারা নিজ নিজ পরিবারকে না জানিয়ে পালিয়ে বিয়ে করে। পরে উভয় পরিবার বিষয়টি মেনে নেয় এবং তারা পারিবারিক ভাবে বসবাস করে আসছিলেন।
নিহত মাহফুজের পিতা আজিজুর রহমান জানিয়েছেন, রোববার সকালে তার স্ত্রী ও পুত্রবধূ রান্না শেষে সবাইকে খাবার খাওয়ায়। খাবার শেষে তিনি হাওরে ধান কাটতে চলে যান। হাওরে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর বাড়ি থেকে খবর আসে ছেলে ও পুত্রবধূ বিষ খেয়েছে। বাড়িতে এসে ছেলে ও পুত্রবধূ রান্নাঘরে বিষপান করে অসুস্থ অবস্থায় পড়ে আছে। সাথে সাথে তাদের দিরাই হাসপাতালে নিয়ে গেলে কতব্যরত চিকিৎসক মনিকা বেগম কে মৃত ঘোষণা করে। আর গুরুত্ব আহত অবস্থার মাহফুজকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে পাঠায়। পরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাহফুজ মারা গেছে মাহফুজের পিতা আজিজুর রহমান নিশ্চিত করেছেন।
দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. প্রশান্ত তালুকদার জানান, হাসপাতালে আনার আগেই মনিকা বেগমের মৃত্যু হয়। গুরুতর অবস্থায় মাহফুজকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন বিষপানে স্বামী-স্ত্রীর আত্মহত্যার বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে। নিহত মনিকা বেগমের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।






