এবার হজের খুতবা বাংলা অনুবাদ করবেন যাঁরা
বিশ্বের মানুষের কাছে ইসলামের বাণী পৌঁছে দিতে চলতি বছরও বাংলাসহ ৫০টি ভাষায় পবিত্র হজের খুতবার অনুবাদ সম্প্রচার করা হবে। সৌদি আরবের পবিত্র মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববীর তত্ত্বাবধানকারী জেনারেল প্রেসিডেন্সি বিভাগের অধীনে এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এ নিয়ে টানা সপ্তমবারের মতো বাংলা ভাষায় হজের খুতবার অনুবাদ সম্প্রচার হচ্ছে।
এ বছর খুতবার বাংলা অনুবাদ কার্যক্রমে রয়েছেন ড. মুহাম্মদ খলীলুর রহমান, ড. আ ফ ম ওয়াহিদুর রহমান, মুবিনুর রহমান ফারুক ও নাজমুস সাকিব। তাঁরা সবাই মক্কার উম্মুল কুরা ইউনিভার্সিটিতে বিভিন্ন সময়ে পড়াশোনা করেছেন।
শুক্রবার (২২ মে) কালের কণ্ঠকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পবিত্র মসজিদুল হারামের খুতবা অনুবাদ প্রকল্পের বাংলা বিভাগের পরিচালক ড. মুহাম্মদ খলীলুর রহমান।
তিনি বলেছেন, ‘আরাফাতের খুতবার অনুবাদ কার্যক্রম এ বছর বাংলাসহ ৫০টি ভাষায় অনুবাদ সম্প্রচার করা হবে। এবারসহ পাঁচবার হজের খুতবার অনুবাদ কার্যক্রমে যুক্ত থেকে দায়িত্ব পালন করেছি। অনুবাদ কার্যক্রমে টিমের সব সদস্য অংশগ্রহণ থাকে। তবে উপস্থাপনায় থাকেন একজন।এর আগে আমি দুইবার হজের খুতবার অনুবাদ উপস্থাপন করেছি।’
মক্কার উম্মুল কুরা ইউনিভার্সিটি থেকে অনার্স, মাস্টার্স ও পিএইচডি ডিগ্রি সম্পন্ন করা ড. মুহাম্মদ খলীলুর রহমান দীর্ঘ এক দশক সৌদি ইন্টারন্যাশনাল রেডিওতে অনুবাদক ও সংবাদ উপস্থাপক হিসেবে কাজ করেছেন। পবিত্র হজ এবং মক্কা ও মদিনার পবিত্র দুই মসজিদের জুমার খুতবার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন দরসের অনুবাদ ও উপস্থাপনা করে থাকেন। তার বাড়ি কুমিল্লার শাসনগাছায়। ১৯৯২ সালে তিনি ধামতী ইসলামিয়া কামিল মাদরাসা থেকে কামিল পরীক্ষায় সারা দেশে প্রথম স্থান অধিকার করেন।
ড. মুহাম্মদ খলীলুর রহমান বলেন, ‘হজের খুতবার অনুবাদ কার্যক্রম একটি সম্মানের কাজ। এর মাধ্যমে বাংলাভাষী মুসলিমদের কাছে ইসলামের সুমহান বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়। মহান আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহে আমরা চারজন বাংলাদেশি দায়িত্বটি পালন করছি। একজন বাংলাদেশি হিসেবে আমি মনে করি, হজের খুতবা নিজ ভাষায় শুনতে পাওয়া গৌরব ও সম্মানের বিষয়। আশা করি, বাংলাভাষী মুসলিমরা হারামাইন থেকে সম্প্রচারিত খুতবা নিজ ভাষায় শুনবেন। সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করি, যেন আমরা সবাই গুরুত্বপূর্ণ এই দায়িত্ব সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে পারি।’
আগামী ২৬ মে (৯ জিলহজ) পবিত্র আরাফাতের ময়দানে হাজিদের সবাই অবস্থান করবেন। সেদিন লাখ লাখ হাজির উদ্দেশে মসজিদে নামিরা থেকে খুতবা দেবেন মক্কার পবিত্র মসজিদে নববীর ইমাম ও খতিব শায়খ ড. আলী বিন আবদুর রহমান আল-হুজাইফি। সারা বিশ্বের মানুষের কাছে ইসলামের বাণী পৌঁছে দিতে বিশ্বের ৫০টি ভাষায় খুতবা সম্প্রচার করা হবে। এসব কাজের তত্ত্বাবধান করছে মক্কা ও মদিনার পবিত্র দুই মসজিদের তত্ত্বাবধানকারী জেনারেল প্রেসিডেন্সি বিভাগের ভাষা ও অনুবাদ এজেন্সি।
সৌদি বার্তা সংস্থা সূত্রে জানা যায়, ১৪৩৯ হিজরি মোতাবেক ২০১৮ সালে সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজের বিশেষ নির্দেশনায় আরাফার খুতবা অনুবাদ প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথম পর্যায়ে শুধু পাঁচটি ভাষায় তা সম্প্রচার করা হয়। পরে ভাষার সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে।
প্রসঙ্গত, ২০২০ সালে প্রথমবারের মতো হজের খুতবা অনুবাদ প্রকল্পে বাংলা ভাষা যুক্ত হয়। ওই বছর মোট ১০টি ভাষায় হজের খুতবার সম্প্রচার করা হয়। তখন প্রথমবার বাংলা অনুবাদ করেছিলেন ড. আ ফ ম ওয়াহিদুর রহমান। ২০২১ সালেও বাংলাসহ মোট ১০টি ভাষায় খুতবার অনুবাদ সম্প্রচার করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন ভাষায় সাপ্তাহিক জুমার খুতবার অনুবাদ সম্প্রচার কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর ২০২২ সালে ১৪টি, ২০২৩ সালে ২০টি ও ২০২৪ সালে ২০টিরও বেশি ভাষায় আরাফার খুতবা অনুবাদ করা হয়। একই সঙ্গে মদিনার পবিত্র মসজিদে নববী থেকেও জুমা ও ঈদের খুতবার অনুবাদ সম্প্রচার কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
মূলত অনুবাদ কার্যক্রম এখন শুধু আরাফাতের খুতবার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং প্রতি সপ্তাহের জুমা, দুই ঈদ, সালাতুল ইস্তিসকা বা বৃষ্টির নামাজ, সালাতুল কুসুফ ও খুসুফের খুতবার পাশাপাশি বিভিন্ন আলোচনা এবং হজ ও ওমরাহ সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও অনুবাদ করা হচ্ছে। সর্বোচ্চসংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে প্রতিবছর অনুবাদ কার্যক্রমে নতুন ভাষা যুক্ত করা হচ্ছে।
আরবিতে উপস্থাপিত হজের খুতবার অনুবাদ বাংলাসহ বিভিন্ন ভাষায় সম্প্রচার করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ফ্রেঞ্চ, মালয়, উর্দু, ফারসি, চায়নিজ, তুর্কি, রাশিয়ান, হাউসা, ইংরেজি, সুইডিশ, স্প্যানিশ, সোয়াহিলি, আমহারিক, ইটালিয়ান, পর্তুগিজ, বসনিয়ান, মালায়লাম, ফিলিপিনো, জার্মান ইত্যাদি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইউটিউবের (Al-haramain-Sermons) বা (Sermons-Test/streams) চ্যানেল থেকে একটি ভাষা নির্বাচন করে খুতবার অনুবাদ শোনা যাবে। তা ছাড়া (manarat al haramain) ওয়েবসাইট থেকে বিগত বছরের খুতবা এবং এর অনুবাদও পাওয়া যাবে।







