বিভিন্ন মহলের শোক
জমিয়ত নেতা মাওলানা আব্দুল জব্বারের জানাজায় হাজার হাজার মানুষের ঢল
সিলেটের বিশিষ্ট আলেম, সমাজসেবক ও জমিয়ত নেতা মাওলানা আব্দুল জব্বার (রহ.) ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি ১১ জুন দিবাগত রাতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর ইন্তেকালে এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬০ বছর। তিনি স্ত্রীসহ ৭ সন্তান রেখে গেছেন। তিনি দীর্ঘ ৩যুগ যাবত জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলূম লামনীগ্রাম মাদরাসার প্রিন্সিপালের দায়িত্ব সুচারুভাবে পালন করেন। মৃত্যুোব্দি ছিলেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় সদস্য ও জৈন্তাপুর উপজেলা শাখার সভাপতি। খতমে নবুওয়াত সংরক্ষণ কমিটি সিলেট জেলা শাখার সহসভাপতি।
১২ জুন (বৃহস্পতিবার) দুপুর ৩টায় স্থানীয় ক্যাপ্টেন রশিদ মাঠে নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজার হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। প্রিয় এই আলেমকে শেষবারের মতো দেখতে ও বিদায় জানাতে মানুষের ঢল নামে। পরে লামনীগ্রাম মাদরাসা সন্নিকটের কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
মরহুমের জানাজায় ইমামতি করেন তাঁর সুযোগ্য ছেলে হাফিজ মাওলানা আসজাদ আহমদ।
জানাজার আগে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় বক্তব্য রাখেন পূর্ব সিলেট কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের সভাপতি শায়খুল হাদীস আল্লামা আলিম উদ্দিন দুর্লভপুরী, শায়খ মাওলানা হাবিবুর রহমান, জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব জয়নাল আবেদীন, সাবেক চেয়ারম্যান কামাল আহমেদ, ইউপি চেয়ারম্যান বাহারুল আলম, ইউপি চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম, মাওলানা শামসুদ্দিন দূর্লভপুরী, সিলেট মহানগর জমিয়তের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল মালিক চৌধুরী, জেলা জমিয়তের সাধারণ সম্পাদক মুফতি এবাদুর রহমান, লন্ডন প্রবাসী শায়খুল হাদীস মাওলানা তরিকুল্লাহ, মাওলানা হিলাল আহমদ হরিপুরী, এডভোকেট মুহাম্মদ আলী, যুব জমিয়তের কেন্দ্রীয় নেতা হাফিজ আব্দুল করিম দিলদার, মাওলানা শাহিদ হাতিমী প্রমুখ ।
বক্তারা বলেন, মাওলানা আব্দুল জব্বার (রহ.) ছিলেন একজন নিরহংকার, প্রজ্ঞাবান, দূরদর্শী ও জনদরদি আলেমে দ্বীন। তিনি সারাজীবন দ্বীনের খেদমত, শিক্ষা বিস্তার, সমাজ সংস্কার এবং মানুষের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন। তাঁর চরিত্রে ছিল সততা, বিনয়, আমানতদারিতা ও মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা। তিনি শুধু একজন আলেমই ছিলেন না, বরং সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য একজন অভিভাবক, পরামর্শদাতা ও আস্থার প্রতীক ছিলেন।
বক্তারা আরও বলেন, তাঁর ইলম, তাকওয়া, নেতৃত্বগুণ এবং সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড আগামী প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি অসংখ্য ছাত্র, আলেম ও দ্বীনদার মানুষ গড়ে তুলেছেন, যারা তাঁর রেখে যাওয়া আদর্শকে ধারণ করে সমাজে কাজ করে যাবেন। তাঁর ইন্তেকালে দ্বীনি অঙ্গন, শিক্ষা জগৎ এবং সর্বস্তরের মানুষ একজন নিবেদিতপ্রাণ অভিভাবক, সৎ পথপ্রদর্শক ও দরদী মানুষকে হারিয়েছে। এই শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।
এদিকে মরহুমের ইন্তেকালে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছে লামনীগ্রাম মাদরাসা কর্তৃপক্ষ, কেন্দ্রীয় জমিয়ত, জৈন্তাপুর উপজেলা জমিয়ত, খতমে নবুওয়াত সংরক্ষণ কমিটি, আবাবিল ফাউন্ডেশন, আলো মিডিয়া ফোরামসহ বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
শোকবার্তায় নেতৃবৃন্দ মরহুমের রূহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা







