গোলাপগঞ্জে সাবেক বিএনপি নেতা ফাহিমুল ইসলামের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তাণ্ডব, ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি
সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ উপজেলায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে এক সাবেক বিএনপি নেতার পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভয়াবহ হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের দলীয় নেতাকর্মীদের রাজনৈতিক আক্রোশের শিকার হয়েছেন তিনি। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের একদল চিহ্নিত ক্যাডার এই ন্যক্কারজনক হামলা ও লুটপাট চালিয়েছে বলে জানা গেছে। এতে প্রায় ৫০ লাখ টাকার বিপুল আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে ভুক্তভোগী পরিবারটি।
ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা ফাহিমুল ইসলাম চৌধুরী সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এলাকার একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হিসেবে গোলাপগঞ্জ বাজারের স্থানীয় প্রধান কেন্দ্রে তাঁর পরিবারের একটি সুপরিচিত ফ্যাশন আউটলেট ছিল। গত ১৩ই মার্চ ২০২৪ তারিখে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে একদল দুষ্কৃতকারী গোলাপগঞ্জ বাজারে অবস্থিত তাঁর সেই পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান “ইনফিনিটি ফ্যাশন”-এর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা মুহূর্তের মধ্যে পুরো দোকান ভাঙচুর করে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে।
হামলার প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, ঘটনার দিন একদল সশস্ত্র যুবক হঠাৎ বাজারে এসে রাজনৈতিক স্লোগান দিয়ে “ইনফিনিটি ফ্যাশন” শোরুমে প্রবেশ করে। তারা দোকানের ভেতরে থাকা দামী আসবাবপত্র, গ্লাস, ডেকোরেশন ও শো-কেস কুপিয়ে ও পিটিয়ে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে। ভাঙচুরের পাশাপাশি হামলাকারীরা দোকানে থাকা বিপুল পরিমাণ মূল্যবান নতুন তৈরি পোশাক, মালামাল এবং ক্যাশবাক্সের নগদ টাকা লুটপাট করে নিয়ে যায়। ভুক্তভোগী ফাহিমুল ইসলাম চৌধুরীর দাবি, এই পরিকল্পিত হামলায় দোকান সম্পূর্ণ ধ্বংস ও সমস্ত মালামাল লুটপাটের কারণে তাঁর আনুমানিক প্রায় ৫০ (পঞ্চাশ) লক্ষ টাকার মতো বিশাল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঘটনার আকস্মিকতায় বাজারের সাধারণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ভুক্তভোগী সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ফাহিমুল ইসলাম চৌধুরী এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় এবং দলের জন্য সক্রিয় ভূমিকা রাখার কারণে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের উগ্র কর্মীরা তাঁর ওপর এই চরম রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করেছে। বৈধ ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে উপার্জিত একটি পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে এভাবে ধ্বংস ও লুটপাট করা অত্যন্ত বর্বরোচিত ও অমানবিক বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উক্ত ঘটনার পর থেকে ফাহিমুল ইসলাম চৌধুরী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিনাতিপাত করছেন। প্রকাশ্য দিবালোকে একটি ঐতিহ্যবাহী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এমন তাণ্ডব ও ৫০ লক্ষ টাকার মালামাল লুটপাটের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও বর্তমান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।







