সুরমা-কুশিয়ারার কয়েকটি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমায়
ভারতের আসামের বন্যার পানি ভাটির দিকে নামতে শুরু করায় সিলেটের প্রধান দুই নদী সুরমা ও কুশিয়ারার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে কয়েকটি পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমা স্পর্শ করেছে বা অতিক্রম করেছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ে এখনই উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। সংস্থাটির দাবি, উজান ও দেশের অভ্যন্তরে নতুন করে ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা না থাকায় সিলেটে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির আশঙ্কা নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েকদিন আবহাওয়ার পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে নদীর পানি ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হতে পারে।
পাউবো সিলেট অফিসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। তবে সিলেট পয়েন্টে গত ২৪ ঘণ্টায় পানি ৯ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেলেও তা এখনো বিপৎসীমার নিচে রয়েছে।
অন্যদিকে কুশিয়ারা নদীর পানি আমলশীদ পয়েন্টে বিপৎসীমার সমান উচ্চতায় এবং ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। যদিও পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে, তবুও শেওলা ও শেরপুর পয়েন্টে এখনো পানি বিপৎসীমার নিচে অবস্থান করছে।
এছাড়া সারিগোয়াইন, পিয়াইন, লোভা ও ধলাই নদীর পানিও কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এসব নদীর কোনো পয়েন্টেই এখন পর্যন্ত বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি।
সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ জানান, ভারতের আসামে বন্যার পানি নামতে শুরু করায় তার প্রভাবেই সুরমা ও কুশিয়ারা নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বর্তমানে সিলেট অঞ্চল কিংবা ভারতের মেঘালয় ও আসামে নতুন করে ভারি বৃষ্টিপাতের কোনো পূর্বাভাস নেই। ফলে নদীর পানি সামান্য আরও বাড়লেও তা থেকে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
তিনি আরও বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড সার্বক্ষণিকভাবে নদ-নদীর পানির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে। পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে তাৎক্ষণিকভাবে অবহিত করা হবে। তাই আপাতত আতঙ্কিত না হয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সরকারি পূর্বাভাস ও নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।






