সাপের মাথা কাটার ৫ মিনিট পর ছোবলে মৃত্যুমুখে বৃদ্ধ!
গরমের এক দুপুরে নদীর ধারে বসে ছিপ দিয়ে মাছ ধরছিলেন ৭২ বছরের এক বৃদ্ধ। চারপাশ ছিল দারুণ শান্ত। কিন্তু তিনি ঘুণাক্ষরেও টের পাননি, সেখানেই লুকিয়ে আছে সাক্ষাৎ যমদূত। হঠাৎ ঝোপের ভেতর থেকে ফণা তুলে এগিয়ে আসে এক হিংস্র কেউটে সাপ। তবে বৃদ্ধ ভয় না পেয়ে লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নেন। কোদালের এক কোপে সাপের মাথাটা শরীর থেকে আলাদা করে ফেলেন তিনি।
বৃদ্ধ ভেবেছিলেন গল্প এখানেই শেষ। কিন্তু সৃষ্টিকর্তা হয়তো অন্য কিছু ঠিক করে রেখেছিলেন। ঠিক পাঁচ মিনিট পর সাপের সেই কাটা মাথা যেন পুনরুজ্জীবিত হয়ে হঠাৎ তার হাতের তালুতে বিষদাঁত বসিয়ে দেয়! যন্ত্রণায় কাঁতরাতে থাকেন বৃদ্ধ। এরপর দীর্ঘ দুই মাস মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা। অবশেষে অলৌকিকভাবে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন তিনি। সম্প্রতি চীনে ঘটেছে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা।
চীনা সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা যায়, ঘটনাটি ঘটে গত মে মাসের এক প্রচণ্ড গরমের দুপুরে। ৭২ বছর বয়সী ঝাং নদীর ধারে একটি নিরিবিলি জায়গায় মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। তিনি জানতেন না, ওই এলাকা ছিল একটি কেউটে সাপের বিচরণক্ষেত্র।
হঠাৎ সাপটি আক্রমণ করতে গেলে ঝাং পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি বুঝতে পারেন, পিছু হটলে সাপটি আরও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে। তাই সঙ্গে থাকা একটি কোদাল দিয়ে তিনি সাপকে আঘাত করেন। পরে নিরাপত্তার জন্য এর মাথা শরীর থেকে আলাদাও করে ফেলেন।
বিচ্ছিন্ন মাথার আকস্মিক ছোবল
ঝাং ভেবেছিলেন বিপদ শেষ হয়েছে। কিন্তু কয়েক মিনিট পরেই ঘটে ভয়ংকর ঘটনা। প্রায় পাঁচ মিনিট ধরে শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা সাপের মাথাটি তুলতে গেলে সেটি হঠাৎ মুখ খুলে তাঁর হাতের তালুতে বিষদাঁত বসিয়ে দেয়।
ঝাংয়ের মতে, ছোবলের অনুভূতি ছিল ‘বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার মতো’। ব্যথায় তিনি চিৎকার করে ওঠেন। শুধু কামড় দিয়েই থামেনি সাপের মাথাটি। কিছু সময় সেটি তার হাত শক্ত করে চেপে রেখেছিল।
ঝাং কোনোভাবে সাপের মাথাটি সরিয়ে দ্রুত হাসপাতালে যান। কিন্তু এর মধ্যেই ক্ষতস্থান ফুলে যায় এবং কালচে হতে শুরু করে। ২০ মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে তার বুকে চাপ অনুভূত হয়। দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে যায়। শুরু হয় বমি। স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে ঝেজিয়াং প্রাদেশিক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়।
অস্ত্রোপচারে বাঁচানো হয় হাত
হাসপাতালে পৌঁছানোর সময় ঝাংয়ের পুরো বাম হাত ফুলে গিয়েছিল। বৃদ্ধাঙ্গুলি থেকে কাঁধ পর্যন্ত অংশে তীব্র ফোলা দেখা যায়। কামড়ের জায়গার চামড়া কালো হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করেছিল।
চিকিৎসকেরা জানান, কেউটের বিষ শরীরে গুরুতর প্রভাব ফেলেছিল। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে টিস্যু স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে যেতে পারত। তাই চিকিৎসকেরা জরুরি অস্ত্রোপচার করে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পরিষ্কার করেন। দুই মাসের চিকিৎসা ও ক্ষত সারানোর পর তার হাত রক্ষা করা সম্ভব হয়।
কেন মাথা কাটার পরও কামড় দেয় সাপ?
ঝেজিয়াং প্রভিন্সিয়াল হসপিটাল অব ট্রাডিশনাল চাইনিজ মেডিসিনের ক্ষত ও রক্তনালি অস্ত্রোপচার বিশেষজ্ঞ ওয়াং ইয়ংগাও বলেন, সাপের মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হলেও কিছু সময় স্নায়বিক প্রতিক্রিয়া সক্রিয় থাকতে পারে। এ কারণে বিচ্ছিন্ন মাথা ১০ মিনিট কিংবা আরও দীর্ঘ সময় পর্যন্ত কামড় দেওয়ার ক্ষমতা ধরে রাখতে পারে। এমনকি বিচ্ছিন্ন মাথার বিষগ্রন্থিও কিছু সময় কার্যকর থাকে। ফলে কামড়ের মাধ্যমে বিষ শরীরে প্রবেশ করতে পারে।
চিকিৎসার পর ঝাং বলেন, তিনি আর কখনো এমন ঝুঁকি নেবেন না। তার কথায়, আমি আর কখনো বেপরোয়া আচরণ করব না। আমাকে এর অনেক বেশি মূল্য দিতে হয়েছে। সূত্র: গ্লোবাল টাইমস







