বিয়ে করার কথা বলে বাড়িতে তরুণীকে ধর্ষণ
রংপুর মহানগরের হারাগাছ থানাধীন সিটি করপোরেশন এলাকায় বিয়ের প্রলোভনে এক তরুণীকে ভাড়াবাড়িতে নিয়ে ধর্ষণের ঘটনার মামলায় অভিযুক্ত রাশেদুল ইসলামকে (২০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার ধর্ষণ মামলায় গ্রেফতারকৃত রাশেদুলকে আদালতের মাধ্যমে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্তকারী হারাগাছ থানার এসআই আনোয়ার হোসেন জানান, এ ঘটনায় বুধবার রাতে ওই নারী বাদী হয়ে হারাগাছ থানায় মামলা দায়ের করেছে। মামলায় অভিযুক্ত রাশেদুল ইসলাম লালমনিরহাট সদরের হরিণচওড়া কালমাটি এলাকার জিয়াউল হকের ছেলে।
ভুক্তভোগী তরুণী (২০) জানান, তার বাড়ি ফরিদপুরে এবং দুই বছরের এক মেয়ে সন্তান রয়েছে। স্বামী নেশাগ্রস্ত হওয়ায় গত বছর তাদের তালাক হয়। প্রায় চার মাস আগে ইমো অ্যাপের মাধ্যমে লালমনিরহাট সদরের রাশেদুল নিজেকে অবিবাহিত পরিচয় দিয়ে তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে। তিনি (ভুক্তভোগী নারী) রাশেদুলকে জানান- তিনি তালাকপ্রাপ্ত ও তার একটি ছোট মেয়ে রয়েছে। রাশেদুল ইমো অ্যাপে তাকে ও কোলের সন্তানকে দেখে। রাশেদুল সবকিছু জানার পরও সন্তানকে নিয়ে তাকে বিয়ে করে সংসার করার কথা জানায়। কয়েক দিন আগে রাশেদুল বিয়ে করার জন্য তাকে রংপুরে আসতে বলে।
তিনি বলেন, বিয়ের আশ্বাসে তিনি কোলের সন্তানকে নিয়ে ফরিদপুর থেকে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকালে রংপুর মহানগরের সাতমাথায় আসেন। তাকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার কথা বললে বিয়ে করে পরে নিয়ে যাবেন বলে জানান রাশেদুল। পরে সেখান থেকে রাশেদুল তাকে ও তার কোলের সন্তানকে নিয়ে হারাগাছ থানাধীন বাহারকাছনা সিগারেট কোম্পানি এলাকায় এসে জুম্মাটারী এলাকায় জনৈক ব্যক্তির বাড়ি ভাড়া নেন। ভাড়াবাড়ির ঘরে সন্ধ্যার দিকে প্রথমে যৌন কামনা চরিতার্থে তার শরীরের বিভিন্ন স্থান স্পর্শ করে রাশেদুল। বাধা দিলে বিয়ে করার কথা বলে তাকে জোরপূর্বক রাতভর একাধিকবার ধর্ষণ করে রাশেদুল।
ওই নারী জানান, বুধবার (২৯ জুলাই) রাত ৮টার দিকে রাশেদুল ভাড়াবাড়িতে তাকে একা ফেলে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেয়ে তিনি চিৎকার করে লোকজন জড়ো করলে স্থানীয় লোকজন রাশেদুলকে আটক করে পুলিশে খবর দেন।
ভুক্তভোগী তরুণী (২০) বলেন, তালাকপ্রাপ্ত জেনেও রাশেদুল তাকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। বিয়ের আশ্বাসে সরল বিশ্বাসে কয়েকশ কিলোমিটার দূর থেকে রাশেদুলের কাছে এসেছি এবং এলাকা অপরিচিত হওয়ায় কাউকে কিছু বলতে পারি নাই। রাশেদুল বিয়ের নামে প্রতারণা করে তাকে ধর্ষণ করেছে। তার মতো আর কোনো নারীর সঙ্গে বিয়ের প্রলোভনে প্রতারণা যাতে না করে সেজন্য বিচারিক আদালতে ধর্ষক রাশেদুলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান ভুক্তভোগী।
রংপুর মেট্রোপলিটন হারাগাছ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে শারীরিক পরীক্ষার জন্য মেয়েটিকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে পাঠানো হয়েছে এবং দুপুরে অভিযুক্ত রাশেদুলকে রংপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে।
রংপুর মেট্রোপলিটন আদালত কোর্ট পুলিশের ওসি আবু সাঈদ চৌধুরী জানান, হারাগাছ থানায় ধর্ষণ আইনে মামলায় গ্রেফতার রাশেদুলকে আদালতের মাধ্যমে রংপুর কারাগারে পাঠানো হয়েছে।






