আইসিটি ও একাধিক মামলায় অভিযুক্ত বিএনপি সদস্য জুলফু আহমেদ বহিষ্কার
সিলেটের দক্ষিণ সুরমা ও কোতোয়ালী থানায় একাধিক ফৌজদারী অপরাধ ও চাঞ্চল্যকর মামলায় অভিযুক্ত থাকার অভিযোগে সিলেট জেলা আওতাধীন দক্ষিণ সুরমা উপজেলার মোল্লারগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য মোঃ জুলফু আহমেদ-কে প্রাথমিক সদস্য পদ সহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আজ (১২ জুন ২০২৬) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সিলেট জেলা শাখা এক জরুরি সিদ্ধান্তে তাকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল স্তরের পদ থেকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি প্রদান করে।
বিএনপি সিলেট জেলা শাখার সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী এবং দক্ষিণ সুরমা উপজেলা বিএনপি-র সভাপতি সাহাব উদ্দিন ইতোমধ্যে দলীয় এই কঠোর সিদ্ধান্তটি কার্যকর করেছেন। পরবর্তীতে সিলেট জেলা বিএনপি-র দপ্তর থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গণমাধ্যমকে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়।
গণমাধ্যমে প্রেরিত ঐ বিজ্ঞপ্তিতে দলের পক্ষ থেকে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলা হয়েছে, বহিষ্কৃত কোনো সদস্যের ব্যক্তিগত, আইনি বা দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কোনো অপকর্মের দায়-দায়িত্ব বিএনপি কখনো বহন করবে না। একই সাথে, সিলেট অঞ্চলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের প্রতি সুনির্দিষ্ট সাংগঠনিক নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে-তারা যেন বহিষ্কৃত মোঃ জুলফু আহমেদের সাথে কোনো ধরনের সাংগঠনিক বা রাজনৈতিক সম্পর্ক বজায় না রাখেন।
জানা গেছে, মোঃ জুলফু আহমেদের বিরুদ্ধে সিলেটের বিভিন্ন থানায় সুনির্দিষ্ট একাধিক মামলা রয়েছে। প্রাপ্ত নথি অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে কোতোয়ালী থানায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন ২০০৬ (সংশোধনী-২০১৩)-এর ৫৭(২)/৬৬(২) ধারায় একটি মামলা (মামলা নং-১৫, দায়েরের তারিখ: ১৪/০৮/২০২৩) দায়ের করা হয়েছিল, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। এছাড়া দক্ষিণ সুরমা থানাতেও দণ্ডবিধির ১৪৭/১৪৮/৩২০/৩২৬/৩২৩/৪২৭/৪৩৫/১০৯/ ৩৪ ধারায় তার বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা (মামলা নং-১৮, দায়েরের তারিখ: ১৮/০৬/২০১৯) রয়েছে, যা পরবর্তীতে দায়রা মামলা নং-১৪৬২/২০২৩ হিসেবে স্থানান্তরিত হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, উক্ত দুই মামলায় আদালতে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এদিকে, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও ফৌজদারী মামলায় জড়িত থাকার কারণে তার এই বহিষ্কারাদেশের ঘটনায় সিলেটের স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।








