রাসূলের সুন্নত: মুসলিম জীবনের আলোকবর্তিকা
মানবজীবনের সবক’টি ক্ষেত্রে ইসলাম পরিপূর্ণ গাইডলাইন দিয়েছে। সেই গাইডলাইনের সর্বোচ্চ দিক হলো নবী মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’র সুন্নত তথা জীবনাদর্শ। প্রিয় নবীর জীবন, আচরণ ও আদর্শ মুসলিম জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আমাদের জন্য অনুস্মরণীয়-অনুকরণীয়। সুন্নত পালন মানে শুধু ইবাদত বা রীতিনীতি মেনে চলা নয়, বরং এটি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। আল্লাহ তাআলা বলেন-وَمَّا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا
‘রাসুল তোমাদের যা দেন, তা গ্রহণ কর, আর যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত হও।’-সুরা হাশর: আয়াত ৭।
এই আয়াতে কারিমায় সুস্পষ্ট নির্দেশ আছে যে, নবীজির সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সুন্নত গ্রহণ ও পালন করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য বাধ্যতামূলক এবং তা আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের অন্যতম মাধ্যম।
সুন্নত হলো ইসলামের পূর্ণতা:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সুন্নত ইসলামের অনুষঙ্গ। যারা সুন্নাত অনুসরণ করেন, তারা ইসলামের পূর্ণ রূপকে অনুধাবন করতে পারেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, مَن رَغِبَ عَن سُنَّتِي فَلَيْسَ مِنِّي
যে আমার সুন্নাত থেকে বিচ্যুত হবে, সে আমার অন্তর্ভুক্ত নয়।’-বুখারি।
আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যম:
সুন্নত পালন মানে আল্লাহর আনুগত্য মেনে চলা এবং তার সন্তুষ্টি অর্জন করা। নবীজির রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’র পথে চলা আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের পরিচয়। আল্লাহ তাআলা বলেন-قُلْ أَطِيعُوا اللَّهَ وَالرَّسُولَ
‘বলুন, ‘তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর এবং রাসুলের আনুগত্য কর।’-সুরা আন-নূর: আয়াত ৫৪।
নৈতিকতার উন্নয়নে সুন্নত:
নবীজির রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আখলাক তথা চরিত্র ও আচরণ অনুসরণ করলে মনুষ্যত্বের সর্বোত্তম দিকগুলো প্রতিফলিত হয়। দয়া, ধৈর্য, সততা, নম্রতা। রাসুলুল্লাহ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, إنما بعثت لأتمم مكارم الأخلاق
‘আমি শুধু নৈতিকতার সেরা গুণাবলি সম্পূর্ণ করার জন্য প্রেরিত হয়েছি।’-মুসনাদে আহমাদ ৮৯৫২।
সুন্নাত পালন সমৃদ্ধি ও বরকত বয়ে আনে
নিয়মিত নবীজি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’র সুন্নতপূর্ণ ইবাদত ও রীতি মেনে চলা জীবনকে সহজ, শান্তিপূর্ণ ও বরকতময় করে। এতে বোঝা যায় যে সুন্নাত ও নবীজির নিয়ম মেনে চললে জীবনে প্রকৃত সমৃদ্ধি ও বরকত আসে। রাসুলুল্লাহ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, من عمل عملاً ليس عليه أمرنا فهو ردّ
‘যে ব্যক্তি এমন কোনো আমল করবে, যে বিষয়ে আমার অনুমোদন নেই, তা আমলকারীর ওপর প্রত্যাখ্যাত হবে।’-মুসলিম ১৭১৮।
সুন্নতের অনুসরনেই উভয় জাহানের সুখ:
বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’র আদর্শ তথা সুন্নতের অনুসরণ কেবল দুনিয়ার জন্য নয়, বরং তা আখিরাতেও কল্যাণ বয়ে আনে। আল্লাহ তাআলা বলেন,
قُلۡ إِن كُنتُمۡ تُحِبُّونَ ٱللَّهَ فَٱتَّبِعُونِي يُحۡبِبۡكُمُ ٱللَّهُ وَيَغۡفِرۡ لَكُمۡ ذُنُوبَكُمۡۚ
‘(হে রাসুল! আপনি) বলে দিন, তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাসতে চাও, তাহলে আমার অনুসরণ কর। ফলে আল্লাহ তোমাদেরকে ভালোবাসবেন এবং তোমাদের অপরাধসমূহ ক্ষমা করবেন।’-সুরা আল-ইমরান: আয়াত ৩১।
আল্লাহ তাআলা অন্য সূরায় ইরশাদ করেন, مَّن يُطِعِ ٱلرَّسُولَ فَقَدۡ أَطَاعَ ٱللَّهَ
‘যে রাসুলের আনুগত্য করলো, সে আসলে আল্লাহরই আনুগত্য করল।’-সুরা নিসা: আয়াত ৮০।
প্রিয় নবীর সুন্নাত পালন হলো মুসলিম জীবনের ভিত্তি। এটি কেবল ইবাদত নয়, বরং নৈতিকতা, আখলাক তথা চরিত্র ও জীবনযাত্রার পূর্ণতা প্রদানকারী। নবী রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দেখানো পথ অনুসরণ করলে আল্লাহর রেজামন্দি তথা সন্তুষ্টি, দুনিয়া ও আখিরাতে বরকত, এবং আত্মিক প্রশান্তি অর্জন সম্ভব।
আমাদের উচিত জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে রাসূল রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সুন্নত তথা জীবনাদর্শকে আলোকবর্তিকা হিসেবে গ্রহণ করা উচিত। কেননা প্রিয় নবী রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’র আদর্শ অনুসরণ আমাদের জীবনকে অলঙ্কৃত করে। আমাদের ইবাদতে প্রাণ সঞ্চার করে। আমাদের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে। আল্লাহ তায়ালা যেনো প্রথমে আমাকে এবং আমাদের সবাইকে আল্লাহ আমাদের সবাইকে বিশ্বনবীর সুন্নত অনুসরণ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।







