চ্যাটজিপিটিতে প্রেমিকাকে হত্যার ছক অবশেষে….
সাবেক প্রেমিকাকে যৌন নির্যাতন ও হত্যার পরিকল্পনা নিয়ে চ্যাটজিপিটির সঙ্গে বিস্তারিত কথোপকথনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় গোল্ডম্যান স্যাকসের সাবেক এক বিশ্লেষককে গ্রেফতার করা হয়েছে।
আদালতের নথির বরাতে ম্যাসাচুসেটস লয়্যারস উইকলি জানিয়েছে, অভিযুক্ত ড্যারেন ঝো (২৫) ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে গোল্ডম্যান স্যাকসে বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
গত মে মাসে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে চ্যাটজিপিটির সঙ্গে তার কথোপকথন এফবিআইয়ের কাছে পাঠায় ওপেনএআই। পরে তদন্তকারীরা প্রায় দুই মাসের চ্যাট ইতিহাস পর্যালোচনা করেন।
তদন্তকারীদের দাবি, ঝোর কথোপকথন কেবল আবেগ বা ক্ষোভ প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। বরং কয়েক মাস ধরে সেখানে সহিংসতার পরিকল্পনা এবং সম্ভাব্য পরিস্থিতি কীভাবে মোকাবিলা করা হবে, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
আদালতের নথি অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চে ছয় মাসের সম্পর্কের অবসানের পর ঝো তার সাবেক প্রেমিকাকে নিয়ে চ্যাটজিপিটির সঙ্গে কথা বলা শুরু করেন। পুলিশকে তিনি জানান, সাবেক প্রেমিকার আশপাশে অন্য পুরুষদের উপস্থিতি নিয়ে তিনি ঈর্ষান্বিত ছিলেন।
তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে ঝো তার সাবেক প্রেমিকার জিমের পার্কিং এলাকায় অপেক্ষা করে ফুল দিয়ে সম্পর্ক পুনরায় শুরুর প্রস্তাব দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান। প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হলে তাকে গুলি করে হত্যার পর নিজেকেও হত্যার পরিকল্পনার কথাও চ্যাটে লিখেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরে তার কথিত পরিকল্পনায় যৌন সহিংসতা ও জিম্মি করে রাখার বিষয়ও যুক্ত হয়। তদন্তকারীদের দাবি, সাবেক প্রেমিকাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে যৌন নির্যাতন এবং আটকে রাখার পরিকল্পনা নিয়ে তিনি আলোচনা করেছিলেন। পুলিশ হস্তক্ষেপ করলে আরও সহিংসতার আশঙ্কার কথাও চ্যাটে উঠে আসে বলে তদন্তকারীরা জানান।
তদন্তের অংশ হিসেবে ২১ বছর বয়সী ওই নারীর সঙ্গে কথা বলে পুলিশ। তিনি জানান, ঝোর অস্বাভাবিক, ঈর্ষাপ্রবণ ও নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণের কারণে তিনি সম্পর্কটি শেষ করেছিলেন। তার আচরণে ভয় পাওয়ায় সামনাসামনি নয়, ফোনে সম্পর্কচ্ছেদ করেন বলেও জানান তিনি।
বিচ্ছেদের পরও ঝো ফোন, খুদে বার্তা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে যেতে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে ওই নারী তার ফোন নম্বর ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট ব্লক করে দেন। এরপর বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে তৈরি নতুন নম্বর ব্যবহার করেও যোগাযোগ অব্যাহত রাখা হয় বলে তদন্তকারীদের দাবি।
গ্রেফতারের ছয় দিন আগে এফবিআই পাম বিচ কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়কে ঝোর চ্যাটজিপিটি কথোপকথন সম্পর্কে সতর্ক করে। তদন্তকারীরা পরে তার চ্যাট ইতিহাস পর্যালোচনা করেন।
একজন শেরিফের ডেপুটি জানান, কথোপকথনগুলো কেবল অস্পষ্ট রাগ বা হতাশার বহিঃপ্রকাশ ছিল না; বরং সেখানে ক্রমশ হুমকি ও সহিংসতার পরিকল্পনার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলে তদন্তকারীদের অভিযোগ।
মে মাসে গ্রেফতারের পর ঝো পাম বিচ কাউন্টি কারাগারে দুই দিন ছিলেন। পরে তিনি ১ লাখ ডলার জামিনে মুক্তি পান। তার বিরুদ্ধে গুরুতরভাবে অনুসরণ বা হয়রানি করা, লিখিতভাবে হত্যার হুমকি দেওয়া এবং মোবাইল ফোনের অবৈধ ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি






