ছাতকে গাছের নিলাম মূল্যায়ন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে স্মারকলিপি

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়কের তকিপুর মসজিদ থেকে তাজপুর বাজার পর্যন্ত ৪৩৪ গাছ কাটা হচ্ছে। এসব গাছ নিলামে বিক্রি করা হলেও গাছের মূল্যায়ন, কাঠের পরিমাণ ও নিলাম প্রক্রিয়া নিরপেক্ষ ভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছে ছাতক উপজেলা হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন কমিটি।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে এ বিষয়ে ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত আবেদন করেন সংগঠনের আহ্বায়ক দিলোয়ার হোসেন ও সদস্য সচিব উজ্জীবক সুজন তালুকদার।
এ সময় সংগঠনের দায়িত্বশীল সদস্য জামিল হোসেন, দিলোয়ার হোসেন জয়, কেএমএ বাসিত, শিব্বির আহমদসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে নিলামের জন্য নির্ধারিত গাছগুলোর নিলাম কার্যক্রম গত ১০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে বাস্তবায়ন করা হয়। ৪৩৪টি গাছের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এর মধ্যে উপকারভোগীদের অংশ হিসেবে ৯ লাখ ৬৪ হাজার ৮০০ টাকা এবং সরকারি অংশ হিসেবে ৩ লাখ ৭৫ হাজার ২০০ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।
আবেদনে আরও বলা হয়, বন বিভাগের হিসাব অনুযায়ী ৪৩৪টি গাছে প্রায় ৩ হাজার ৫২৯ ঘনফুট কাঠ এবং ২ হাজার ৬৭১ ঘনফুট জ্বালানি কাঠ রয়েছে। গাছগুলোর মধ্যে রেইনট্রি, মেহগনি, আকাশমণি, শিশু, জাম, পিটালি, অর্জুন, ছাতিয়ান, জারুল, গামারি, কড়ই, চাপালিশ, বাবলা ও কদমসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রয়েছে।
সংগঠনটির দাবি, গাছের প্রজাতি, বয়স, আকার, কাঠের পরিমাণ ও জ্বালানি কাঠের পরিমাণ বিবেচনায় সরকারি মূল্যায়ন যথাযথ হয়েছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নিলামমূল্য বর্তমান বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, সেটিও যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে।
আবেদনে নিলাম প্রক্রিয়ায় যথাযথ প্রতিযোগিতা ও সর্বোচ্চ উপযুক্ত দর নিশ্চিত হয়েছিল কি না, নিলামের সীমা ও কার্যাদেশ অনুযায়ী গাছ কাটা হয়েছে কি না এবং নির্ধারিত সীমার বাইরে কোনো গাছ কাটা হয়ে থাকলে তা বন্ধ করার দাবি জানানো হয়।
এ ছাড়া তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট গাছ কাটার কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা, গাছ বিক্রির মাধ্যমে প্রাপ্ত সরকারি ও উপকারভোগীদের অর্থের অংশ যথাযথভাবে নির্ধারণ ও বণ্টন করা এবং নিলামসংক্রান্ত মূল্যায়ন প্রতিবেদন, গাছের তালিকা, কাঠ ও জ্বালানি কাঠের পরিমাণ এবং নিলামমূল্যের তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে।
সংগঠনের আহ্বায়ক দিলোয়ার হোসেন ও সদস্য সচিব উজ্জীবক সুজন তালুকদার বলেন, সরকারি সম্পদ ও পরিবেশ সুরক্ষার স্বার্থে বিষয়টির একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য তদন্ত প্রয়োজন। অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, স্বার্থসংশ্লিষ্টতা বা সরকারি সম্পদের আর্থিক ক্ষতির প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তারা।






