শান্তিগঞ্জ-রজনীগঞ্জ সড়কের কাজ হস্তান্তরের আগেই ব্রীজের এপ্রোচে ধস ও ফাটল
সুনামগঞ্জ জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলার ভাটির জনপদ খ্যাত পশ্চিম বীরগাও ইউনিয়নের শান্তিগঞ্জ-রজনীগঞ্জ সড়ক। এই সড়কের প্রায় ৯৫ ভাগ কাজ এতোমধ্যে বিভিন্ন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সম্পন্ন করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। প্রকল্পের বড়মোহা-বসিয়াখাউরী-জয়সিদ্ধি (জেবিবি) উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশের খালে শান্তিগঞ্জ-রজনীগঞ্জ সড়কের বসিয়াখাউরী ব্রিজ নির্মাণ করেছে মেসার্স কূহিনুর এন্টারপ্রাইজ নামে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। কাজটি হস্তান্তরের আগেই এপ্রোচে ধস ও ফাটল দেখা দিয়েছে। সেই সাথে নানান অনিয়ম আর অব্যবস্থাপনায় কাজটির প্রায় ৯৫ ভাগ কাজ সম্পন্ন করেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।
সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, ২০২০-২১ অর্থ বছরে ৮ কোটি ৫২ লক্ষ ২৬ হাজার ৬০৮ টাকা ব্যয়ে শান্তিগঞ্জ-রজনীগঞ্জ সড়কের বসিয়াখাউরী খালে ৬০ মিটার ব্রীজের কাজ পায় বরিশালের ঠিকাদারী মেসার্স কোহিনূর এন্টারপ্রাইজ। কাজটি ০১ সেপ্টেম্বর ২০২০ সালে শুরু করে ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২২ সালে শেষ করার কথা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শান্তিগঞ্জ বাজার থেকে পশ্চিম বীরগাও ইউনিয়নের বড়মোহা-বসিয়াখাউরী-জয়সিদ্ধি (জেবিবি) উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশের খালে শান্তিগঞ্জ-রজনীগঞ্জ সড়কের বসিয়াখাউরী ব্রিজ নির্মাণ করেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। ব্রিজের উত্তর পাশের এপ্রোচে অনেক জায়গায় ধস ও গর্ত দেখা দিয়েছে। এপ্রোচের নিচে অনেক জায়গায় ব্লক এব্রুতেব্রু অবস্থায় লাগানো হয়েছে। কিছু কিছু অংশ ধেবে গেছে। দক্ষিণ পাশে জেবিবি উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে হাসকুড়ি-করেরগাও সড়ক সংযোগের অংশে এখনো লাগানো হয়নি ব্লক। ব্লক না থাকায় হাওড়ের আফালে (ডেউ) ভেঙে যাচ্ছে সড়ক। অকেন জায়গায় জুড়াতালী দিয়ে রেখেছেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। সেই জোড়াতালিও আবার খসে পড়ছে।
বসিয়াখাউরী এলাকার বাসিন্দা সুরকম আলী, মিজান মিয়া সহ এলাকার অনেকেই জানান, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন এই কাজের শুরু থেকে নানান অনিয়ম করে আসছেন। আমরা এলাকাবাসী অনেকবার বাধা দিয়েছি। কিন্তু তারা কারও কথা শুনেন না। এখন ব্রিজের বিভিন্ন অংশে ফাটল ও ধস দেখা দিয়েছে। তারা কয়েকদিন পরে পরে এসে সে গুলো লামছাম কাজ করে জোড়াতালি দিয়ে যায়। আবার সে গুলো ধসে পড়ে।
মেসার্স কোহিনুর এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মেহদি হাসান জানান, আমার প্রকল্পের কাজ ২ বছর আগেই সম্পন্ন করেছি। এলজিইডি আমার প্রকল্পের কাজ গ্রহণ করছেন না। কাজ পরিত্যাক্ত অবস্থায় থাকলেতো ত্রুটি দেখা দিবেই। আমি সে গুলো কয়েকদিনের মধ্যেই সমাধাণ করে দেবো।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী সাজেদুল আলম জানান, এই কাজে অনেক ত্রুটি আছে। ঠিকাদারকে চিঠি সহ অনেক তাগাদ দিয়েছি। তারা আমাদের কথার কোন কর্ণপাত করছেন না। ত্রুটির কারণে আমরা কাজ গ্রহণ করছি না। কাজ পুরোদমে শেষ করলে তা গ্রহণ করা হবে।
সুনামগঞ্জ এলজিইডির নিবার্হী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন বলেন, আমার কাছে ঠিকাদার এসেছিলেন কাজ হস্তাস্তরের জন্য। আমি খোঁজ খবর নিয়ে দেখেছি কাজে অনেক ত্রুটি আছে। সেগুলো সম্পন্ন করতে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে বলেছি। কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত টাকা নেওয়ার কোন সুযোগ নাই। ##







