তাহিরপুরে বসতবাড়িতে প্রবেশ করে শিক্ষককে কুপিয়ে জখম
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে পূর্ববিরোধের জেরে বসতবাড়ির উঠানে ঢুকে দা দিয়ে কুপিয়ে নজরুল ইসলাম (৩২) নামে এক শিক্ষককে গুরুতর আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের কামড়াবন্দ গ্রামে।
গুরুতর আহত নজরুল ইসলামকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রথম তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে। আহত গুরুতর আহত নজরুল ইসলাম উপজেলার ব্রাহ্মণ গাও আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।
এ ঘটনায় একই গ্রামের মানিক মিয়া (৪৫) ও পিয়ারা বেগম (৪৮) নামে দুজনের বিরুদ্ধে তাহিরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ময়না আক্তার (৩৭)।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বাদী ময়না আক্তারের সঙ্গে অভিযুক্তদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। ঘটনার দিন দুপুরে ময়না আক্তার তার বসতবাড়ির উঠানের পাশে থাকা কলাগাছ থেকে কলার মোচা কাটতে গেলে তার হাতে থাকা কাচি পড়ে যায়। পরে বাড়ির ভাড়াটিয়া নজরুল ইসলাম বাঁশের মাথায় কাচি বেঁধে দেওয়ার জন্য উঠানে গেলে পূর্ববিরোধের জেরে অভিযুক্ত মানিক মিয়া ও তার ভাবি পিয়ারা বেগম ময়না বেগম ও রা ৪ বছরের শিশু পুত্রের উপর হামলা করে। এ সময় মানিক মিয়া হাতে থাকা দা দিয়ে ময়না আক্তারকে ধাওয়া করলে তিনি প্রাণ রক্ষার্থে বাড়ির ভেতরে চলে যান। এ সময় প্রতিবাদ করলে মানিকের হাতে থাকা দা দিয়ে নজরুল ইসলামের মাথায় কুপ দিলে এতে তার মাথার পেছনের ডান পাশে গুরুতর কাটা ও রক্তাক্ত জখম হয়।
পরে আহত নজরুলের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। স্থানীয়দের সহযোগিতায় প্রথমে তাকে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, আহতের মাথায় মোট ১১টি সেলাই দেওয়া হয়েছে এবং তার চিকিৎসা চলমান রয়েছে।
বাদী ময়না আক্তার অভিযোগ করেন, ঘটনার পর অভিযুক্তরা তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। এতে তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী ঘটনার সত্যতা জানেন এবং তাদের সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তাহিরপুর থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে ঘটনার তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন ময়না আক্তার।
এ সত্যতা নিশ্চিত করে তাহিরপুর থানার ওসি ফারুক আহমেদ বলেন, তদন্ত পূর্বক অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।







