রোগী দেখানোর সিরিয়ালকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত শতাধিক
ছাতকে চিকিৎসকের চেম্বারে রোগী দেখানোর সিরিয়ালকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় উভয় পক্ষের অন্তত শতাধিক লোক আহত হয়েছেন।
খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চসলায়। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে মধ্যস্থতাকারী জনপ্রতিনিধি এবং সাংবাদিক সহ একাধিক পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে ।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত প্রায় টা পর্যন্ত ছাতক পৌরসভার হাসপাতাল রোড (মন্ডলীভোগ) ও মোগলপাড়ার মধ্যবর্তী পাকা সড়কে সংঘর্ষ চকালে উভয় পক্ষের লোকজনকে দেশীয় অস্ত্র সহ ইট পাটকেল ও কাচের বোতল নিক্ষেপ করেতে দেখা গেছে।
দফায় দফায় দাওয়া পাল্টা দাওয়া ঘটনায় হাসপাতাল রোডে বাসিন্দা নারী, শিশু ও হাসপাতালে অবস্থানরত রুগীর স্বজনরা সহ আসপাশের লোকজন দিক বেদিক ছুটাছুটি করতে শুরু করন। এতে পুরো এলাকায় এক অজানা আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছাতক পৌরসভার ট্রাফিক পয়েন্ট সংলগ্ন দে ফার্মেসিতে প্রতিদিনের মতো শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. মো. হেদায়েত হোসেন রোগী দেখছিলেন। সেখানে রোগীর সিরিয়াল লেখাকে কেন্দ্র করে চিকিৎসকের সহকারী অনিক আহমেদ (১৭) ও মোগলপাড়ার তাহমিনা আক্তারের (৩৮) মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। বিষয়টি পরে দুই এলাকার লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করে।
একপর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও দেশীয় অস্ত্র লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। খবর পেয়ে ছাতক থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ঝলক মোহন্তের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সংঘর্ষে মঙ্গল পাড়া গ্রামের সেলিম মিয়ার পুত্র আহত সাইম উদ্দিন (১৬) ও সাবাস মিয়ার পুত্র আল আমিন (২৯) কে ছাতক হাসপাতালে নিয়ে গেলে দুজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় দায়িত্বরত চিকিৎসকগন উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদেরকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করেন।
এবং মাসুম (২৯), শিমুল আহমদ (৩১), আং আহাদ (২৭), সাজু (২৬), আফিক হাসান (১৭), সুহেল আহমদ (২৬), আশরাফুল (২০), আলা উদ্দিন (২৩)৷ সমর আলী (২৬) সাকমান আহমদ (১৯), ইদ্রীস (২০), বাবলু (৩০) হেলাল আহমদ (৪২), সাদিকুর (২৩), তানজিল আহমেদ (২৪), মাহফুজ মিয়া (২৪), ইসমাইল মিয়া (১৮), আইনুল হক (৩০), আনোয়ার হোসেন (৩৮) ৬১জন কে ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও অন্যান্য আহতদেরকে বিভিন্ন ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
এদিকে, সংঘর্ষ চলাকালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একাধিক বার চেষ্টা চালিয়ে সাবেক পৌর কাউন্সিলর ও পৌর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক জসিম উদ্দিন সুমেন সহ ছাতক থানার , এসআই মো. রোমেন, এএসআই মোঃ মাসুদ মিয়া, নায়েক সৌরভ পাল, কনস্টেবল মো. ফয়সাল, ও স্থানীয় সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী আহত হয়ে ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
সংঘর্ষের সত্যতা নিশ্চিত করে, ছাতক থানার ওসি তদন্ত, জানান, বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে।
খবর পেয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (ছাতক সার্কেল) শেখ মোঃ মুরছালিন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।







