সাজু চৌধুরীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ এনে কানাইঘাটের মন্তাজগঞ্জে প্রতিবাদ সভা
কানাইঘাটের মন্তাজগঞ্জ বাজারে সাজু চৌধুরীর বিরুদ্ধে অপহরণ পরবর্তী মুক্তিপণ আদায় সহ নানা অভিযোগ এনে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুুপুর ১২টায় এলাকাবাসীর উদ্যেগে এ প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়।
প্রতিবাদ সভায় লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নের নারাইনপুর গ্রামের আব্দুর জব্বারের পুত্র মৎস্যজীবি আব্দুল ওয়াহিদ চুনু মিয়া সহ বেশ কয়েকজন বক্তব্য রাখেন।
আব্দুল ওয়াহিদ চুনু মিয়া বলেন, গত ১ আগস্ট তিনি ব্যবসায়িক কাজে বাড়ি থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়ে সিলেট শহরের কদমতলি সংলগ্ন বাঁধের পাশে পৌঁছা মাত্র উপজেলার দিঘীরপাড় ইউনিয়নের দর্পনগরপূর্ব গ্রামের মৃত আনোয়ারুল হক চৌধুরীর পুত্র গণ অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা আবুল মনসুর সাজু চৌধুরী ও তার বাহিনী অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে একটি অটোরিক্সা সিএনজি গাড়িতে করে নিয়ে যায়। চুনুর দাবী তাকে জিম্মি করে মুখ বেঁধে অপহরণ করে সাজু চৌধুরী তার বাসায় আটক রাখে। সেখানে ইলেক্ট্রিক শক সহ শারীরিক নির্যাতন করা হয়। সাজু চৌধুরী রাতভর চুনুকে বাসায় আটক রাখা অবস্থায় ৭৮ লক্ষ টাকা পাওনা দাবী করে। এরপর সাজু চৌধুরী সাজু চৌধুরী তাকে জিম্মি করে ব্যাগ থেকে নগদ ৭ হাজার টাকা, সিলেট শহরের উপশহরস্থ পূবালী ব্যাংক ও ডাচ-বাংলা এটিএম বুথ থেকে তার সহযোগীদের দিয়ে ৫৫ হাজার টাকা উত্তোলন করে নেয়। এছাড়াও সাজু চৌধুরী তাকে শারীরিক নির্যাতন করে ভিডিও ধারন করে এবং ৩’শ টাকার নন জুডিসিয়াল স্ট্যাম্প ও পূবালী ব্যাংকের ৩টি চেকপাতায় জোরপূর্বক স্বাক্ষর নিয়ে নেয় এবং সাজু চৌধুরী তাকে ফিশারম্যান জাতি তুলে কটাক্ষ করে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে। পরদিন চুনু মিয়ার পিতা আব্দুল জব্বার সাজু চৌধুরীর বাসায় গিয়ে নগদ আরো ২ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দেয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। চুনু মিয়া তার বক্তব্যে এ ঘটনার সুত্রপাত উল্লেখ করে আরো বলেন তিনি একজন মৎস্যজীবি সম্প্রদায়ের নিরীহ মানুষ এবং মৎস্য ব্যবসায়ী। অনুমান ১০ বছর পূর্বে দর্পনগর গ্রামের প্রভাবশালী আবুল মনসুর সাজু চৌধুরী স্থানীয় মমতাজগঞ্জ বাজারে তার পরিবারের নিজস্ব জমি দাবী করে সেই জমির উপর একটি মার্কেট নির্মাণের দায়িত্ব তাকে দেন। মার্কেট নির্মাণে প্রায় ৩৮ লক্ষ টাকা খরচ হওয়ার পর সাজু চৌধুরীর দাবীকৃত মার্কেটের জায়গাটি সরকারি খাস জায়গায় অবস্থিত হওয়ায় উপজেলা প্রশাসন নির্মিত মার্কেট সম্পূর্ণভাবে গুড়িয়ে দেন। মার্কেট গুড়িয়ে দেওয়ার পর সাজু চৌধুরীর কাছে তার মার্কেট নির্মাণের অবশিষ্ট পাওনা ১৬ লক্ষ টাকা দাবী করলে সাজু চৌধুরী তার উপর ক্ষিপ্ত হয়। এরপর সাজু চৌধুরী উল্টো চুনু মিয়ার কাছে ১৭ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা পাওনা দাবী করে স্ট্যাম্পে তার স্বাক্ষর জালিয়াতি করে আদালতে মামলা করেন। কিন্তু সেই মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হয়। সবদিক কিছুতে সাজু চৌধুরী ব্যার্থ হয়ে গত ১ আগস্ট তাকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় সহ নানা নির্যাতন করে। বর্তমানে আব্দুল ওয়াহিদ চুনু মিয়া এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে গত ৩ সেপ্টেম্বর সিলেটের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ১ম আদালতে বাদী হয়ে আবুল মনসুর সাজু চৌধুরীর নাম উল্লেখ করে আরো ৪/৫ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে দরখাস্ত মামলা দায়ের করেছেন। বিজ্ঞ আদালত দরখাস্ত মামলাটি তদন্ত করার জন্য সিলেটের সিআইডিকে নির্দেশ দিয়েছেন বলে চুনু মিয়া তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন।
এ সময় প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত থেকে আব্দুল ওয়াহিদের পিতা আব্দুল জব্বার, বিশিষ্ট মুরব্বী হাজী বিলাল মিয়া, আব্দুল আজিজ, মন্তাজগঞ্জ বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শাহীন আহমদ, এলাকার মুরব্বী জমির উদ্দিন, হোসন আহমদ, আতাউর রহমান, আলমাছ উদ্দিন, কামাল উদ্দিন, বুরহান উদ্দিন সহ আরো অনেকে আব্দুল ওয়াহিদ চুনু মিয়ার উপর সাজু চৌধুরী কর্তৃক সৃষ্ট ঘটনার সঠিক তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবী জানান। এ
ব্যাপারে আবুল মনসুর সাজু চৌধুরী অপহরণ অস্বীকার করে বলেন, আব্দুল ওয়াহিদ চুনু মিয়ার কাছে তার পাওনা টাকা রয়েছে। চুনু মিয়া একজন মিথ্যাবাদী। পাওনা টাকা না দিয়ে চুনু তার পিতা ও ভাগ্না মিলে বিভিন্ন ধরনের মিথ্যা অপপ্রচার করে যাচ্ছে।







