মাধবপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ব্যাহত চিকিৎসাসেবা
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুজন ডেন্টাল সার্জন কর্মরত থাকলেও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাবে ব্যাহত হচ্ছে দন্ত চিকিৎসাসেবা। ডেন্টাল ইউনিটে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র বিকল হয়ে পড়ে আছে। নেই প্রয়োজনীয় আধুনিক সরঞ্জাম এবং ল্যাবরেটরি টেকনোলজিস্ট (ডেন্টিস্ট)। ফলে দাঁতের জটিল রোগের চিকিৎসা তো দূরের কথা, অনেক ক্ষেত্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দিতেও সমস্যায় পড়ছেন চিকিৎসকেরা। এতে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের ভোগান্তি বাড়ছে।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, ডেন্টাল ট্রিটমেন্ট ইউনিটে ডেন্টাল এক্স-রে (আইওপিএ) মেশিন, স্কেলিং মেশিন, রুট ক্যানেল চিকিৎসার সরঞ্জাম, সাকার মেশিন ও আধুনিক ডেন্টাল চেয়ারসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির সংকট রয়েছে। এর মধ্যে বেশ কিছু যন্ত্র দীর্ঘদিন ধরে অচল। ফলে স্থায়ী ফিলিং, স্কেলিং, রুট ক্যানেল, দাঁতের জটিল সংক্রমণসহ বিভিন্ন চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
সরেজমিনে ডেন্টাল ইউনিটে গিয়ে দেখা যায়, দুজন ডেন্টাল সার্জন দায়িত্ব পালন করলেও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে তাঁদের চিকিৎসাসেবা সীমিত হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে ল্যাবরেটরি টেকনোলজিস্ট (ডেন্টিস্ট) পদটি শূন্য থাকায় চিকিৎসাসেবায় আরও সংকট তৈরি হয়েছে।
আদাঐর ইউনিয়নের মিঠাপুকুর গ্রামের বাসিন্দা মো. সুজন মিয়া দাঁতের ব্যথা নিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে এসে সমস্যার মুখে পড়েন। তিনি বলেন, “দাঁতের ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে এসেছিলাম। কিন্তু প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে পারিনি। ডেন্টাল চেয়ারে সমস্যা থাকায় শেষ পর্যন্ত বেসরকারি চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।”
ডেন্টাল ইউনিটের পরিবেশ নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করে সুজন মিয়া বলেন, “দন্ত চিকিৎসার জায়গাটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা জরুরি। কিন্তু ইউনিটটির পরিবেশও সন্তোষজনক নয়।”
মাধবপুর পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শফিক মিয়া বলেন, সাধারণ মানুষের জন্য সরকারি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হলে ডেন্টাল বিভাগটি দ্রুত আধুনিকায়ন করা প্রয়োজন। বিকল যন্ত্রপাতি মেরামতের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আধুনিক সরঞ্জাম সরবরাহ করে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা চালুর দাবি জানান তিনি।
দন্ত বিভাগের সহকারী ডেন্টাল সার্জন ডা. নিবেদিতা রায় বলেন, “আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিতেও সমস্যায় পড়ছি। ডেন্টাল চেয়ারসহ অনেক যন্ত্রপাতি নষ্ট। বিষয়গুলো কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।”
মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ইমরুল হাসান জাহাঙ্গীর বলেন, “এখানে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। তবে জটিল চিকিৎসা এখন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ডেন্টাল এক্স-রে ও সাকার মেশিনসহ আরও উন্নত যন্ত্রপাতি প্রয়োজন। যন্ত্রপাতি মেরামত ও টেকনিশিয়ানের জন্য আবেদন করা হয়েছে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ডেন্টাল ইউনিটে যন্ত্রপাতির সংকট থাকলেও তা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে। দ্রুত বিকল যন্ত্রপাতি মেরামত, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ ও শূন্য পদে জনবল নিয়োগের মাধ্যমে ডেন্টাল ইউনিটে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা চালুর দাবি জানিয়েছেন তারা।







