ইউপি সদস্যের ছেলের বিরুদ্ধে জনপ্রতিনিধির পরিচয়ে কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ
সরকারি সুবিধা বণ্টনে হস্তক্ষেপ, কার্ড করে দেওয়ার নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ; তদন্তের আশ্বাস প্রশাসনের সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে মৃত সাবেক ইউপি সদস্যের ছেলে মো. স্বপন মিয়ার বিরুদ্ধে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না হয়েও দীর্ঘদিন ধরে ইউপি সদস্যের মতো কার্যক্রম পরিচালনা, সরকারি সুযোগ-সুবিধা বণ্টনে প্রভাব বিস্তার এবং স্থানীয় বিভিন্ন বিষয়ে হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক নির্বাচিত ইউপি সদস্য মো. একলাছ উদ্দিন মৃত্যুবরণ করার পর তাঁর ছেলে মো. স্বপন মিয়া কোনো নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি বা আইনগতভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি না হয়েও দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে ওয়ার্ডের মেম্বার হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন বলে অভিযোগকারীদের দাবি।
অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেছেন, সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা, ভাতা ও সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে তিনি প্রভাব বিস্তার করছেন। স্থানীয় বিরোধে জনপ্রতিনিধির মতো হস্তক্ষেপ, বিভিন্ন কাগজপত্র ও প্রত্যয়ন সংক্রান্ত বিষয়ে সুপারিশ এবং ইউনিয়ন পরিষদ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রতিনিধিত্বমূলক ভূমিকা পালনেরও অভিযোগ করা হয়েছে।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হিসেবে স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে ‘অদৃশ্য শক্তির’ প্রভাবে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিভিন্ন সরকারি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, সরকারি সুবিধা ও কার্ড পাওয়ার আশ্বাস দিয়ে কারও কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নেওয়া হয়ে থাকলে তা তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এ ছাড়া সরকারি সুবিধা, ভাতা ও সহায়তা বণ্টনের ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম এবং আর্থিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগও করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হয়নি এবং অভিযোগের পক্ষে কী ধরনের প্রমাণ রয়েছে, তা লিখিত অভিযোগে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়নি।
অভিযোগকারীরা বলেন, কোনো নির্বাচিত ইউপি সদস্য মৃত্যুবরণ করলে তাঁর ছেলে বা কোনো আত্মীয় স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওই পদে অধিষ্ঠিত বা দায়িত্বপ্রাপ্ত হন না। তাই মো. স্বপন মিয়া বর্তমানে কোনো সরকারি, ইউনিয়ন পরিষদ বা আইনগত দায়িত্বে রয়েছেন কি না, সেটিও প্রশাসনের মাধ্যমে স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তাদের দাবি, বিষয়টি দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হোক। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সরকারি সুযোগ-সুবিধা বণ্টন ও স্থানীয় প্রশাসনিক কার্যক্রমে কোনো ধরনের অনিয়ম থাকলে তা বন্ধ করা হোক।
‘মানবিক কারণে কিছু দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে’
অভিযোগের বিষয়ে বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন বলেন, “তার বাবার মৃত্যুর পর অসহায় ও মানবিকতার দিক বিবেচনা করে তাকে কিছু দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।”
তদন্তের আশ্বাস প্রশাসনের
এ বিষয়ে মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জনি রায় বলেন, “তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
তবে লিখিত অভিযোগে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে মো. স্বপন মিয়ার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।
এখন প্রশ্ন উঠেছে—নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না হয়েও কোনো ব্যক্তি কীভাবে দীর্ঘদিন ধরে একটি ওয়ার্ডের জনপ্রতিনিধির মতো কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন এবং সরকারি সুবিধা বা কার্ড করে দেওয়ার নামে অর্থ লেনদেনের অভিযোগের আদৌ কোনো সত্যতা রয়েছে কি না। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্তেই এসব প্রশ্নের প্রকৃত উত্তর বেরিয়ে আসবে।







