মেঘলা সকালে সুরমার জলে পূর্বপুরুষদের স্মরণে তর্পণ
শরতের মেঘলা সকাল। রাতের শিশিরে ভেজা প্রকৃতি। সুরমা নদীর শান্ত জলে হালকা ঢেউ। এমন সুন্দর পরিবেশে সিলেটের কানিশাইল ঘাটে পূর্বপুরুষদের স্মরণ ও তাঁদের আত্মার শান্তি কামনায় শুরু হয়েছে তর্পণ।
শনিবার (৩ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কানিশাইল ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, সুরমার পানিতে নেমে বিভিন্ন মানুষ ধর্মীয় নিয়মে তর্পণ করছেন। কেউ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে, আবার কেউ কয়েকজন মিলে দলবদ্ধভাবে তর্পণে অংশ নেন। অনেকেই নিজেদের পুরোহিত সঙ্গে নিয়ে তর্পণ করেন।
ইসকন সিলেটের ভক্তদের তর্পণে পৌরোহিত্য করেন ইসকন সিলেট মন্দিরের অন্যতম পূজারী প্রফুল্ল প্রদ্মুন্ন দাস অধিকারী। তিনি মন্ত্র উচ্চারণ করে তর্পণের নিয়মগুলো বুঝিয়ে দেন। তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী পানিতে নেমে ভক্তরা একসঙ্গে মন্ত্র উচ্চারণ করেন এবং পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে জল অর্পণ করেন।
তর্পণের সময় নদীর পানিতে দাঁড়িয়ে থাকা ভক্তদের সঙ্গে পুরোহিতও মন্ত্র উচ্চারণ করছিলেন। তিনি একেকটি নিয়ম বলে দিচ্ছিলেন, আর অংশগ্রহণকারীরা তা অনুসরণ করে তর্পণ করছিলেন। পুরো সময়টিতে কানিশাইল ঘাটে ছিল শান্ত ও ধর্মীয় পরিবেশ।
ইসকন সিলেটের তর্পণে অংশ নেন ইসকন সিলেট মহানগর নামহট্টের সাবেক সভাপতি আদি অনন্ত দাস অধিকারী, ইসকন সিলেট বিভাগীয় কমিটির ভূমি ব্যবস্থাপনা ও আইন বিভাগের সদস্য শ্রীধর সুধাম দাস, ইসকন সিলেট মন্দিরের গৃহস্থ কাউন্সিল সভাপতি সুমঙ্গল গৌর দাস অধিকারী এবং ইসকন সিলেট যোগাযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক সিদ্ধ মাধব দাস অধিকারী।
এ ছাড়া ইসকন সিলেটের গৃহস্থ, ব্রহ্মচারীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও ভক্তরা তর্পণে অংশ নেন।
তবে শুধু ইসকন সিলেটের ভক্তরাই নন, কানিশাইল ঘাটে বিভিন্ন পরিবার ও কয়েকটি দলও নিজেদের পুরোহিত নিয়ে তর্পণ করেন। তাঁদের সহযোগিতার জন্য ঘাটে প্রয়োজনীয় লোকজনও ছিলেন।
ঘাটের চারপাশে থাকা অনেক মানুষও নদীতে চলা তর্পণের দৃশ্য দেখছিলেন। কেউ দূর থেকে দাঁড়িয়ে দেখেছেন, আবার কেউ নিজেদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে ধর্মীয় আচার পালন করেছেন। ফলে সকালজুড়ে কানিশাইল ঘাটে মানুষের উপস্থিতি ছিল বেশ চোখে পড়ার মতো।
মেঘলা আকাশ, শিশিরভেজা প্রকৃতি আর সুরমা নদীর শান্ত পরিবেশ পুরো আয়োজনটিকে আরও সুন্দর করে তোলে। নদীর জলে দাঁড়িয়ে একসঙ্গে মন্ত্র উচ্চারণ ও জল অর্পণের দৃশ্য ছিল বেশ আবেগঘন।
কানিশাইল ঘাটে তর্পণ আগামী শনিবার ১০ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। তবে বৃষ্টি হলে ওই সময় তর্পণ বন্ধ থাকবে।
তর্পণের নিয়ম, সময়সূচি বা অন্য কোনো বিষয়ে বিস্তারিত জানতে এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেতে ইসকন সিলেট মন্দিরের পূজারী প্রফুল্ল প্রদ্নুন্ন দাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে।
পূর্বপুরুষদের স্মরণ করে তাঁদের আত্মার শান্তি কামনা করাই তর্পণের মূল উদ্দেশ্য। শরতের এই সময়ে সুরমার জলে দাঁড়িয়ে সেই ধর্মীয় আচার পালনের মধ্য দিয়ে অনেকেই তাঁদের প্রিয়জন ও পূর্বপুরুষদের স্মরণ করছেন।







