ইসলামে শিক্ষকের বিশেষ মর্যাদা
ইসলামে শিক্ষার সর্বোচ্চ গুরুত্ব রয়েছে। আর মহানবী (সা.) ছিলেন সর্বোত্তম শিক্ষক। কারণ তাঁকে পড়ার নির্দেশ দেওয়ার মাধ্যমে পবিত্র কোরআনের অবতরণ শুরু হয়েছিল। কোরআনের প্রথম বাণী ছিল, ‘আপনি পড়ুন আপনার রবের নামে, যিনি আপনাকে সৃষ্টি করেছেন। যিনি মানুষকে জমাট বাঁধা রক্তপিণ্ড থেকে সৃষ্টি করেছেন।’ (সুরা আলাক, আয়াত : ১-২)
শিক্ষার মাধ্যমে মানুষ সত্যের সন্ধান লাভ করে।
এর মাধ্যমে অন্ধকার থেকে আলোর পথের খোঁজ মেলে। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, ‘এই গ্রন্থ, যা আমি আপনার ওপর অবতরণ করেছি, যেন আপনি মানুষকে তাদের রবের অনুমতিতে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন, পরাক্রমশালী প্রশংসিতের পথের দিকে।’ (সুরা ইবরাহিম, আয়াত : ১)
মানবজাতিকে ইসলামের শিক্ষা দেওয়ার জন্য মহানবী মুহাম্মদ (সা.)-কে পাঠানো হয়েছিল। ইরশাদ হয়েছে, ‘তিনিই নিরক্ষরদের মধ্যে তাদের মধ্য থেকে একজন রাসুল পাঠিয়েছেন, যিনি তাদের কাছে তিলাওয়াত করে তাঁর আয়াতগুলো, তাদের আত্মশুদ্ধি করে এবং তাদের পবিত্র কোরআন ও প্রজ্ঞা শিক্ষা দেয়। যদিও ইতিপূর্বে তারা স্পষ্ট ভ্রষ্টতার মধ্যে ছিল।’ (সুরা জুমআ, আয়াত : ২)
নবী-রাসুলরা (আ.) ছিলেন মানবজাতির শিক্ষক। আর সর্বোত্তম শিক্ষক ছিলেন মহানবী (সা.)। তিনি নবুয়তের পবিত্র দায়িত্ব লাভের পর থেকেই তার শিক্ষকতার পর্ব শুরু হয়েছিল। তিনি বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আমি শিক্ষক হিসেবে প্রেরিত হয়েছি।’ (মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস : ২৫৭)
ইসলামে জ্ঞানীদের বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। আর শিক্ষকরা হলেন বিশেষ জ্ঞানের অধিকারী। ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদের জ্ঞান দান করা হয়েছে আল্লাহ তাদের মর্যাদায় উন্নত করবেন; তোমরা যা কোরো আল্লাহ সে সম্পর্কে সবিশেষ অবহিত।’ (সুরা : মুজাদালা, আয়াত : ১১)
তাই পবিত্র কোরআনে আল্লাহ মানবজাতিকে শিক্ষাগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘বলুন, যারা জানে এবং যারা জানে না তারা কি সমান?’ (সুরা : ঝুমার, আয়াত : ৯)
ইসলামের দৃষ্টিতে সর্বোত্তম ব্যক্তি সে যে পবিত্র কোরআন শিক্ষা করে ও তা পাঠদান করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি যে কুরআন শিক্ষা করে এবং শিক্ষা দেয়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২/৭৫২)
ইসলামে জ্ঞানার্জনের যাত্রাকে ‘আল্লাহর রাস্তা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি জ্ঞানার্জন করতে বের হয়, আল্লাহর রাস্তায় বলে গণ্য হবে যতক্ষণ না সে ঘরে ফেরে।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ২৬৪৭)।
তাই পবিত্র কোরআনে যেসব বিষয় বৃদ্ধির দোয়া করা হয়েছে এর অন্যতম হলো জ্ঞান। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘বলুন, হে আমার প্রতিপালক, আমার জ্ঞান বাড়িয়ে দিন।’ (সুরা তোহা, আয়াত : ১১৪)
ইসলামী শরিয়তে জীবন যাপনের পর্যাপ্ত জ্ঞানার্জন বাধ্যতামূলক। রাসুসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর ওপর জ্ঞানার্জন করা ফরজ।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২২৪)
ইসলামে জ্ঞানার্জনের পর তা প্রচার করাও আবশ্যক। কেউ কোনো জ্ঞান লাভের পর তা গোপন করা যাবে না। নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তিকে কোনো জ্ঞান সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলো এবং সে তা গোপন করল, আল্লাহ তাকে কিয়ামতের দিন আগুনের লাগাম পরিধান করাবেন।’ (সুনানে আবি দাউদ, হাদিস : ৩৬৫৮)
নবীজি (সা.) বলেন, ‘কোনো জ্ঞানীর উচিত না, তার জ্ঞান নিয়ে চুপ থাকা (আড়াল করা) এবং কোনো মূর্খের উচিত নয় তার মূর্খতার ব্যাপারে চুপ থাকা (সন্তুষ্ট থাকা)।’ (মুজামুল আউসাত, হাদিস : ৫৩৬৫)
তা ছাড়া ইসলামে যেকোনো বিষয়ে জ্ঞানর্জানকে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। আয়েশা (রা.) বলেন, ‘আনসারি নারীরা কতই না উত্তম। দ্বিন সম্পর্কে মাসআলা জিজ্ঞাসা করতে এবং দ্বিনি জ্ঞানে ব্যুৎপত্তি অর্জনে তারা লজ্জাবোধ করে না।’ (সুনানে আবি দাউদ, হাদিস : ৩১৬)







