মাদকের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে কুপিয়ে জখম, হামলাকারী আটক
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে মাদক ও চোরাচালানবিরোধী সংবাদ প্রকাশের জেরে মোহাম্মদ আব্দুল মোতালিব ভূঁইয়া নামে এক সাংবাদিককে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে আব্দুল আহাদ ভূঁইয়া নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ঘটনায় অভিযুক্ত আহাদকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় লোকজন।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া বাজারে সাংবাদিক আব্দুল মোতালিব ভূইয়ার কার্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে। এ
আহত আব্দুল মোতালিব ভূঁইয়া জাতীয় দৈনিক সংবাদ-এর দোয়ারাবাজার উপজেলা সংবাদদাতা এবং উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক। অভিযুক্ত আব্দুল আহাদ ভূঁইয়া চৌধুরীপাড়া গ্রামের মো. ইউসুফ ভূঁইয়ার ছেলে।
মোতালেব ভূঁইয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক ও চোরাচালানবিরোধী বিভিন্ন সংবাদ প্রকাশ করে আসছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার সন্ধ্যায় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁর কার্যালয়ে প্রবেশ করেন আহাদ। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে আঘাত করা হয়। এতে তাঁর ডান হাতের কবজি ও বাঁ হাতের কনুইসহ গলা, কোমর এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়।হামলায় গুরুতর আহত সাংবাদিক মোতালিব ভূঁইয়াকে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে দোয়ারাবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি বিবেচনায় উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান কর্তব্যরত চিকিৎসক।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, আহাদ ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে মাদক কারবার ও সীমান্তকেন্দ্রিক বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে এবং এ-সংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হামলার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।
আহত সাংবাদিকের মোতালেব জানান, আব্দুল আহাদ ভূঁইয়া দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত দিয়ে মাদক ও চোরাই পণ্যের কারবারের সঙ্গে জড়িত। এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এবং বিভিন্ন সময়ে সংবাদ প্রকাশ করায় তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন আহাদ। এর আগেও তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে তাঁর কার্যালয়ে হামলা করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। এসব ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে দোয়ারাবাজার থানায় অভিযোগও করেছিলেন বলে জানান মোতালিব ভূঁইয়া।
ঘটনার খবর পেয়ে দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম তালুকদার এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদুল ইসলাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আহত সাংবাদিককে দেখতে যান। এ সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সাংবাদিক প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
দোয়ারাবাজার থানার ওসি তরিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, সাংবাদিকের ওপর হামলার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত আব্দুল আহাদকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে। এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।







