হবিগঞ্জে ৩৪ শতাংশ যানবাহনের ফিটনেস নেই
হবিগঞ্জে নিবন্ধিত যানবাহনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই ফিটনেসবিহীন। এসব যানবাহনের বেশির ভাগই প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন সড়কে চলাচল করছে। পুরোনো ও ত্রুটিপূর্ণ যানবাহনের পাশাপাশি অদক্ষ চালক ও ট্রাফিক আইন না মানার প্রবণতায় সড়কে বিশৃঙ্খলা ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অন্যদিকে ফিটনেসবিহীন যানবাহন থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্যও ঝুঁকি তৈরি করছে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্য অনুযায়ী, জেলায় নিবন্ধিত মোট ৩১ হাজার ৮৬১টি মোটরযানের মধ্যে ১০ হাজার ৫০৪টির বৈধ ফিটনেস নেই। অর্থাৎ, নিবন্ধিত মোট যানবাহনের ৩৩ দশমিক ৯৭ শতাংশই ফিটনেসবিহীন।
বিআরটিএর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ফিটনেসবিহীন যানবাহনের তালিকায় সবচেয়ে বেশি রয়েছে অটোরিকশা। জেলায় ৯ হাজার ৫৩৯টি বৈধ অটোরিকশার কোনো ফিটনেস নেই। এ ছাড়া ১৭৩টি হিউম্যান হলার, ১৭৩টি পিকআপ, ১৩১টি ট্রাক ও ৯৩টি বাস ফিটনেসবিহীন অবস্থায় রয়েছে। এর বাইরে টেম্পো, মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনও রয়েছে এ তালিকায়। এমনকি রোগী পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত ১০টি অ্যাম্বুলেন্সেরও বৈধ ফিটনেস নেই।
বিআরটিএর হিসেবে, হবিগঞ্জে নিবন্ধিত মোট ৩১ হাজার ৮৬১টি মোটরযানের মধ্যে ১০ হাজার ৫০৪টির ফিটনেস নেই। শতকরার হিসাবে যা ৩৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ। অর্থাৎ নিবন্ধিত প্রতি তিনটি যানবাহনের একটি ফিটনেসবিহীন।
এসব যানবাহনের একটি অংশ নিয়মিত মহাসড়ক, আঞ্চলিক সড়ক ও শহরের বিভিন্ন সড়কে চলাচল করছে। বিশেষ করে অটোরিকশার সংখ্যা বেশি হওয়ায় ফিটনেসবিহীন যানবাহনের তালিকাতেও এ ধরনের যানবাহন সবচেয়ে বেশি। শহর ও উপজেলা পর্যায়ে যাত্রী পরিবহনে এসব যানবাহন ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হওয়ায় এগুলো নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
যাত্রীদের অভিযোগ, অনেক পুরোনো যানবাহন নিয়মিত যাত্রী পরিবহন করছে। এগুলোর কোনোটি চলাচলের সময় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে মাঝপথে বিকল হয়ে যায়। এতে যানজট ও ভোগান্তি তৈরি হয়।
হবিগঞ্জ সদর উপজেলার ব্যবসায়ী আফতাব উদ্দিন বলেন, ‘হবিগঞ্জে যে যানবাহনগুলো চলাচল করছে, তার অধিকাংশেরই ফিটনেস নেই। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহারের কারণে এগুলো ত্রুটিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। অধিকাংশ গাড়িতে ব্রেক, স্টিয়ারিং, টায়ার, লাইটসহ গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশে ত্রুটি দেখা যায়। যে কারণে এসব যানবাহন দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।’
আজমিরীগঞ্জের যাত্রী শিহাব মিয়া বলেন, ‘ইদানীং হবিগঞ্জে দুর্ঘটনার সংখ্যা অনেক বেড়েছে। এর প্রধান কারণ অদক্ষ চালক ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন। রাতে অনেক গাড়িতে হেডলাইট থাকে না, সিগন্যাল লাইটও থাকে না। আবার ফিটনেস না থাকার কারণে ছোটখাটো দুর্ঘটনাও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। প্রায় প্রতিটি দুর্ঘটনাতেই দেখা যায়, যানবাহনগুলো একেবারে ধুমড়ে-মুচড়ে যায়।’
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জাল সোহেল বলেন, ‘চিকিৎসকদের পরিসংখ্যান বলছে, জেলায় শ্বাসকষ্টজনিত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। এর প্রধান কারণ পরিবেশদূষণ। পুরোনো যানবাহনগুলো শুধু দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে না, এগুলো থেকে অতিরিক্ত কালো ধোঁয়াও নির্গত হচ্ছে। এতে বায়ুদূষণ বাড়ার পাশাপাশি সড়কে চলাচলকারী মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে শহর ও ব্যস্ত সড়কগুলোতে অতিরিক্ত ধোঁয়া পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।’
তিনি বলেন, ‘এ জন্য যানবাহনের চালক-মালিকরা যতটা দায়ী, সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোও ঠিক ততটাই দায়ী। কারণ, এসব বিষয়ে তারা যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। এ ছাড়া চালকদের দক্ষতা ও ট্রাফিক আইন মেনে চলার বিষয়টিও সড়ক নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি জড়িত।’
এ ব্যাপারে বিআরটিএ হবিগঞ্জের সহকারী পরিচালক (অতিরিক্ত) আব্দুর রশিদ বলেন, ‘আমাদের অনুমোদিত মোটরযানগুলোর মধ্যে যেগুলোর ফিটনেসের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়, আমাদের সিস্টেম থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাদের কাছে একটি এসএমএস যায়। ফলে সংশ্লিষ্টরা ফিটনেস নবায়ন করে নিতে পারেন। যারা ফিটনেস নবায়ন করছেন না, সেই যানবাহনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। সড়কে চলাচলকারী যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
হবিগঞ্জের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর রেজাউল করিম খান বলেন, ‘ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ফলে অনেক যানবাহনের মালিক বা চালক নিয়মিত ফিটনেস নবায়ন করছেন। এটা আমাদের অভিযানের সুফল। এ ছাড়া কেন্দ্রীয়ভাবে অভিযান জোরদারের নির্দেশনা রয়েছে। আমরা সেই অনুযায়ী অভিযান আরও জোরদারের চেষ্টা করছি।’
সূত্র: খবরের কাগজ







