জুড়ী নদীর ভাঙনে হুমকির মুখে বসতভিটা, ফসলি জমি
বসতভিটা মানেই মাথা গোঁজার ঠাঁই, পরিবারের নিরাপদ আশ্রয়। সেই আশ্রয়ই যখন নদীর ভাঙনে ধীরে ধীরে বিলীন হওয়ার পথে থাকে, তখন দিন কাটে চরম অসহায়ত্বে। এমনই অবস্থা জুড়ী উপজেলার বেশ কয়েকটি পরিবারের।
মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়নের গৌরীপুর গ্রামে জুড়ী নদীর ভাঙনের মুখে চরম অসহায় হয়ে পড়েছে স্থানীয় কয়েকটি পরিবার। অব্যাহত ভাঙনে তাদের বসতভিটা ও ঘরবাড়ি এখন হুমকির মুখে। এরই মধ্যে আব্দুল মালিকের রান্নাঘর নদীতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া ইলিয়াস আলী, ইস্রাব আলী, ইয়াজ আলী, আয়াজ আলী ও আবুল কালামের বসতভিটার অংশ নদীভাঙনের কবলে পড়েছে।
নদীভাঙন অব্যাহত থাকলে বসতভিটা হারিয়ে কোথায় আশ্রয় নেবেন, কীভাবে পরিবার-পরিজন নিয়ে দিন কাটাবেন– এমন শঙ্কা তাদের তাড়া করে ফিরছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, তারা দরিদ্র মানুষ। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে বসতভিটায় পরিবার নিয়ে আছেন। কিন্তু নদীভাঙনে বাড়ির জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বসতভিটার আরও অংশ নদীতে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
এ অবস্থায় নদীভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো। পাশাপাশি আর্থিক সহায়তা ও পুনর্বাসনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছে তারা।
বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্তরা স্থানীয় মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা-জুড়ী) আসনের সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠুর সুদৃষ্টি কামনা করেছেন। তাদের প্রত্যাশা, স্থানীয় এমপি ভাঙনকবলিত এলাকায় এসে মানুষের দুর্ভোগ দেখবেন এবং ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নিবেন। একই সঙ্গে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের প্রতি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা। নদীভাঙন প্রতিরোধের পাশাপাশি আর্থিক সহায়তা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হলে পরিবারগুলো ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবে বলে মনে করছে।
গৌরীপুরের এসব পরিবারের এখন একটাই আকুতি– নদীভাঙন থেকে রক্ষা পাক তাদের শেষ আশ্রয়স্থল। সময় থাকতে উদ্যোগ নেওয়া হলে হয়তো রক্ষা পাবে তাদের বসতভিটা এবং নিরাপদ থাকবে পরিবারের সদস্যদের মাথা গোঁজার ঠাঁই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত এগিয়ে আসবে– এমন প্রত্যাশা তাদের।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান হাজী মাছুম রেজা জানান, তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে ব্যবস্হা গ্রহণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।







