চা বাগানের দুই প্রান্তে দুর্ভোগ, ধসে পড়ল একমাত্র সেতু
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার লস্করপুর ও কাপাই চা বাগানের মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সেতুটি পাহাড়ি ঢলের তোড়ে ধসে পড়েছে। এতে দুই বাগানের অন্তত ৮ হাজার মানুষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে চা পাতা পরিবহনও। ফলে চা বাগানের স্বাভাবিক কার্যক্রমে দেখা দিয়েছে স্থবিরতা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান এলাকা থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সেতুটির দুই পাশের অ্যাপ্রোচ সড়কসহ মাঝের অংশ ধসে যায়। প্রায় ১৫ বছর আগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সেতুটি নির্মাণ করেছিল। কয়েক বছর আগেও ঢলের আঘাতে এটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
কাপাই চা বাগানের বাসিন্দারা জানান, প্রতিদিন কয়েকশ শিক্ষার্থী এই সেতু ব্যবহার করে লস্করপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উচ্চবিদ্যালয়ে যাতায়াত করত। সেতু ধসে পড়ায় তাদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এদিকে কাপাই চা বাগানে উৎপাদিত চা পাতা প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য লস্করপুর কারখানায় নেওয়া হয়। সেতু ভেঙে যাওয়ায় এখন কয়েক কিলোমিটার পথ ঘুরে চা পাতা পরিবহন করতে হচ্ছে। এতে সময় ও ব্যয় দুটোই বেড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
পাইকপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ওয়াহেদ আলী বলেন, দুই বাগানের প্রায় দুই হাজার শ্রমিক পরিবারের আট হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। ছড়াটি বড় হয়ে যাওয়ায় সেতুটি আগে থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। লস্করপুর চা বাগানের ব্যবস্থাপক মো. সাজ্জাদুল হক বলেন, সেতুর মাঝের পিলারও ভেঙে গেছে। এটি আর মেরামতযোগ্য নয়। এখানে নতুন সেতু নির্মাণ ছাড়া বিকল্প নেই। চুনারুঘাট উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. ফজলুল হক বলেন, বাগান কর্তৃপক্ষকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণের জন্য সদর দপ্তরে প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হবে।






