চার ঘণ্টার ঘুম, বাকি সময় প্রতিমার সঙ্গে
রাত গভীর হলে যখন চারপাশের কোলাহল থেমে যায়, তখনো থামে না বিশ্বজিৎ পালের কাজ। সামনে সারি সারি প্রতিমা। কোনোটি এখনো মাটির কাজের পর্যায়ে, কোনোটি আবার রঙের অপেক্ষায়। সময় কম, কাজ বাকি অনেক। তাই ঘুমের সময়টুকুও কমিয়ে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত তিনি।
সিলেটের কালীবাড়িতে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) গিয়ে দেখা গেল, শারদীয় দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে প্রতিমাশিল্পীদের ব্যস্ততা এখন তুঙ্গে। কারও হাতে মাটি, কারও হাতে রঙের তুলি। প্রতিমার শরীরে ধীরে ধীরে ফুটে উঠছে দেবীর রূপ।
প্রতিমাশিল্পী বিশ্বজিৎ পাল বলেন, “এখন আমাদের সারারাত সজাগ থেকে কাজ করতে হয়। চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা ঘুম ছাড়া বাকি সময় আমাদের কাজ করতে হয়। আগামী শুক্রবার থেকে ডেলিভারি দিতে হবে।”
এবার কাজের চাপও অন্য বছরের তুলনায় বেশি বলে জানান তিনি। কারণ এবার বেশি প্রতিমার অর্ডার পেয়েছেন তাঁরা। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সব প্রতিমা তৈরি করে মণ্ডপে পৌঁছে দিতে তাই রাত-দিন কাজ করতে হচ্ছে।
শুধু কারিগরদের ব্যস্ততাই নয়, প্রতিমা ঘিরে অর্ডারদাতাদের মধ্যেও দেখা গেছে আগ্রহ। কেউ নিজের অর্ডার করা প্রতিমার কাজ কতদূর এগিয়েছে, তা দেখতে আসছেন। কেউ কারিগরের কাছে খোঁজখবর নিচ্ছেন। আবার কেউ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মুঠোফোনে প্রতিমার ছবি তুলে রাখছেন।
নিজের অর্ডার করা প্রতিমা দেখতে আসা এক যুবকও কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে কাজ দেখছিলেন। তাঁর আগ্রহ—প্রতিমাটি কেমন হচ্ছে, কাজ কতদূর এগিয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা মণ্ডপে পৌঁছানো যাবে কি না।
বিশ্বজিৎ পাল জানান, প্রতিমার আকার ও কাজের ধরন অনুযায়ী দাম নির্ধারণ করা হয়। এবার প্রতিটি প্রতিমার দাম ৫০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে এক লাখ টাকারও বেশি।
কর্মশালায় তখনো ব্যস্ততা। কোনো প্রতিমায় মাটির কাজ চলছে, কোনো প্রতিমায় রং দেওয়া হচ্ছে। শেষ মুহূর্তের প্রতিটি কাজেই যেন সময়ের সঙ্গে পাল্লা।
পূজার আনন্দ মণ্ডপে শুরু হওয়ার আগেই তার প্রস্তুতি শুরু হয় কারিগরদের হাত ধরে। দিনের পর দিন মাটি, রং আর তুলির আঁচড়ে তাঁরা তৈরি করেন প্রতিমা। আর পূজার কয়েক দিন আগে সেই কাজই হয়ে ওঠে তাঁদের দিন-রাতের সঙ্গী।
চার-পাঁচ ঘণ্টার ঘুমের পর আবার শুরু হয় কাজ। এভাবেই কারিগরের হাতের মাটি ও রঙে ধীরে ধীরে পূর্ণতা পায় প্রতিমা, আর কাছে আসতে থাকে শারদীয় দুর্গোৎসব।
সিদ্ধ মাধব দাস
কলামিস্ট ও যোগাযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক, ইসকন সিলেট।







