বাংলাদেশের কৃষি ও কৃষকের দুরবস্থা ও উত্তরণ

সমুজ আহমদ সায়মন
কৃষকদের ঐকান্তিক চেষ্টা ও অক্লান্ত পরিশ্রমেই বাংলাদেশ কৃষি ক্ষেত্রে পূর্ণতা লাভ করে।কেননা কৃষি ও কৃষকই এদেশের অর্থনৈতিক অবকাঠামো গঠন ও উন্নয়নের প্রধান কান্ডারী। শুধু তাই নয়, আজও বাংলাদেশের অর্থনীতি অনেকাংশেই কৃষি নির্ভর। তাই কৃষির উপরই এদেশের অধিকাংশ মানুষের জীবন-জীবিকা নির্ভর করছে।
বাংলাদেশের কৃষকদের উৎপাদিত কৃষিপণ্যই দেশের বেশিরভাগ খাদ্যশস্যের যোগান দেয়।অথচ অনেক ক্ষেত্রে আমাদের স্মরণে থাকেনা যে ,এদেশের কৃষক সমাজ যদি কষ্ট করে ফসল না ফলাত তাহলে আমাদের অন্য বস্ত্রের সংস্থান হয়ত সম্ভব হতো না।তাছাড়া আমাদের জাতীয় উন্নয়নের ক্ষেত্রে কৃষিপণ্য যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে তা মূলত সম্ভবপর করেছে এদেশের কৃষক সমাজ।কিন্তু এদেশের কৃষি ও কৃষকরা আজ নানাবিধ দূরাবস্থা পতিত।তাইতো কৃষি কাজার প্রতি কৃষকরা আজ আস্থা হারিয়ে ফেলছে।প্রয়োজনীয় কৃষি সরন্জাম ক্রয়সহ কীটনাশক বা সার ব্যবহারের অধিক ব্যয় কৃষকদের আরো হতাশাগ্রস্ত করে তুলছে।অবশ্য কিছুক্ষেত্রে কৃষকদের সফলতার চিত্রও চোখে পড়ছে কিন্ত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে তা সীমিত।
বাংলাদেশের কৃষির সবচেয়ে বড় সমস্যাটি হলো,এদেশের অধিকাংশ কৃষক এখনো আগেকার যুগের চাষাবাদ করছে।উন্নত দেশগুলোর কৃষকদের মতো বিজ্ঞানভিত্তিক আধিপত্য শিক্ষায় তারা প্রশিক্ষিত নয়।এছাড়া দিনদিন জমির উর্বরতাশক্তি হ্রাস পাবার কারণে বর্তমানে সহজ জমিতে ভাল ফসল ফলছে না।অধিকন্তু এদেশের কৃষকদের পর্যাপ্ত নিজস্ব জমি নেই বলে অনেক সময় অন্যের কাছ থেকে বর্গা নিয়ে তাদেরকে চাষাবাদ করতে হচ্ছে। সেক্ষেত্রে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যের শিকার হতে হচ্ছে এদেশের কৃষকদের। অবস্থা এমন যে,অনেকক্ষেত্রে ফসলের নামমাত্র মূল্য পাচ্ছে তারা।বিভিন্ন অপকৌশলও এদেশের কৃষি ও কৃষকদের নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করছে কৃষকদের। এছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণেও এদেশের কৃষি ও কৃষককুল প্রতিবছর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। প্রয়োজনীয় কৃষি সরন্জাম,উন্নত বীজ,সার, কীটনাশক ও সেচের ব্যবস্থা না থাকাও এদেশের কৃষি ও কৃষকদের দুরবস্থার অন্যতম কারণ। আর এ থেকে উত্তরণ ও এদেশের কৃষিকে এগিয়ে নিতে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে আরও বেশি যত্নবান হতে হবে।এক্ষেত্রে কৃষি ও কৃষকদের দুরবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য কৃষকদের আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর কৃষিভিত্তিক শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে।প্রয়োজনে কৃষকদের প্রযুক্তিগত শিক্ষা দান করে তাদেরকে দক্ষ করে তুলতে হবে।এছাড়া উন্নত সার,বীজ,সেচ ব্যবস্থা ,রিপিং মেশিন ,হারভেস্টিং মেশিনসহ প্রয়োজনীয় কৃষি সরন্জামাদি বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে প্রদান করার ব্যবস্থা করতে হবে।প্রাথমিক পর্যায়ে তাদেরকে অর্থনৈতিক সহায়তাদানের লক্ষ্যে সহজ শর্তে কৃষি ঋনের ব্যবস্থা করতে হবে।কৃষকদের কষ্টার্জিত ফসল জাতে সঠিক মূল্যে বিক্রি হয় তার ব্যবস্থা করতে হবে।বিভিন্ন দূর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থদের সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের হাতকে আরও প্রসারিত করতে হবে।সর্বোপরি বিভিন্ন প্রতিকূলতাকে অবদমিত করে এবং কৃষকদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিলে তবে এগিয়ে যাবে এদেশ।আর তাদের শ্রমনিষ্ঠার মধ্য দিয়ে দেশ অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধশালী হয়ে প্রকৃত সোনার বাংলা হিসেবে গৌরবময় পরিচিতি লাভ করবে এবং তাদের কষ্ট সফল হবে।
সমুজ আহমদ সায়মন, সাংবাদিক ও লেখক, বিশ্বনাথ সিলেট।