এনসিপির আহ্বায়ক দেখবেন রাজনীতি, সদস্য সচিব চালাবেন দল

দৈনিকসিলেট ডেস্ক :
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের নেতাদের গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) অন্যান্য দলের চেয়ে ব্যতিক্রমী পন্থায় সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে। দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন সদস্য সচিব আখতার হোসেন।
অন্যান্য দলে সদস্য সচিব বা সাধারণ সম্পাদকের সুপারিশে কমিটি অনুমোদন করেন আহ্বায়ক বা সভাপতি। তবে এনসিপিতে জেলা-উপজেলা পর্যায়ের কমিটির অনুমোদন করবেন সদস্য সচিব এবং সংশ্লিষ্ট মুখ্য সংগঠক। এনসিপি সূত্র সমকালকে এ তথ্য জানিয়েছে।
নবগঠিত দলটি আজ মঙ্গলবার সকালে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করবে। এর পর রায়েরবাজার কবরস্থানে চব্বিশের অভ্যুত্থানে শহীদদের কবর জিয়ারত করবেন তারা। বিকেলে বাংলামটর কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হবে।
সোমবার নাহিদ ইসলামের সভাপতিত্বে এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ও যুগ্ম আহ্বায়কদের সভা হয়। সদস্য সচিবের সভাপতিত্বে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ও যুগ্ম সদস্য সচিব, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহর সভাপতিত্বে যুগ্ম মুখ্য সংগঠকদের, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের সভাপতিত্বে যুগ্ম মুখ্য সংগঠকদের এবং মুখ্য সমন্বয়কারী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সভাপতিত্বে যুগ্ম-মুখ্য সমন্বয়কারীদের সভা হয়।
এনসিপি সূত্র জানিয়েছে, ২১৭ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটিকে এই পৃথক পাঁচটি প্যানেলে ভাগ করা হয়েছে। ১৫১ সদস্যের কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হলেও সব পক্ষের নেতাদের জায়গা করে দিতে আকার বৃদ্ধি করা হয়েছে। কমিটির আকার আরও বাড়তে পারে।
গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তি, ইসলামী ছাত্রশিবির, ছাত্র অধিকার পরিষদ, মাদ্রাসাভিত্তিক বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন এবং বাম সংগঠন থেকে আসা নেতাদের অংশগ্রহণ ছিল শেখ হাসিনার পতন ঘটানো অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে। পরবর্তী সময়ে গঠিত জাতীয় নাগরিক কমিটিতেও নানা ধারা ও মতের নেতারা যোগ দেন। এনসিপির কমিটিতেও তা অব্যাহত রয়েছে।
দলটির সূত্র জানিয়েছে, বহুমতের সম্মিলন করতে গিয়ে বিভেদের সূত্রপাত হতে পারে। তাই জেলা উপজেলায় কমিটি গঠন ও অনুমোদন দেবে সদস্য সচিব এবং সংশ্লিষ্ট মুখ্য সংগঠক। যে অঞ্চলের জেলা উপজেলা কমিটি হবে, সেই অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক যুক্ত থাকবেন কমিটি গঠন ও অনুমোদনে। সমন্বয় করবে সমন্বয়কারী প্যানেল।
সূত্রটি আরও জানিয়েছে, সদস্য সচিব এবং সংগঠক প্যানেল সারাদেশে এনসিপি সংগঠন সৃষ্টি ও বিস্তারে কাজ করবে। আহ্বায়কের নেতৃত্বাধীন প্যানেল রাজনৈতিক কর্মসূচি নির্ধারণ করবে। তা বাস্তবায়নে সব প্যানেলের মধ্যে সমন্বয় করবে সমন্বয়কারী প্যানেল। জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন সমকালকে বলেন, এসব বিষয়ে আলাপ চলছে। চূড়ান্ত হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
অভ্যুত্থানের পর নেতাদের নেতৃত্বে গঠিত এনসিপি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজনে আত্মপ্রকাশ করে। আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে তরুণদের এ দলটি চারটি বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে সাংগঠনিক পরিধি বিস্তৃতি ঘটাবে বলে জানিয়েছেন দলটির একাধিক নেতা।
দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্বে থাকা সালেহ উদ্দীন সিফাত বলেন, প্রধান কাজ হবে গঠনতন্ত্র ও ইশতেহার প্রণয়ন, কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা এবং সারাদেশে সাংগঠনিক বিস্তার কার্যক্রম পরিচালনা করা।
এনসিপি ‘সেকেন্ড রিপাবলিক’ এবং নতুন সংবিধান প্রণয়নে গণপরিষদ নির্বাচনকে লক্ষ্য বললেও চলতি মাসের মধ্যে জেলা-উপজেলায় কমিটি গঠনই অগ্রাধিকার পাচ্ছে। জনসমর্থন আদায়ে চাঁদাবাজি, দখলবাজি, ঘুষ, দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান নিয়ে আগামী ডিসেম্বরেই নির্বাচন হবে ধরে নিয়ে ভোটের মাঠে থাকবে বলে দলীয় নেতাদের ভাষ্য। ভারতীয় ‘আধিপত্যবাদ’ বিরোধী স্বরও চড়া রাখবে এবং আওয়ামী লীগের প্রতি অনমনীয়তার নীতি অব্যাহত থাকবে।