শাবিতে শিক্ষার্থীদের পকেট কাটছে ‘আধুনিক ফুডকোর্ট’

নুর আলম, শাবিপ্রবি
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া অধিকাংশ শিক্ষার্থী মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। টিউশনের বেতন দিয়ে চলে এসব শিক্ষার্থীদের তিনবেলার আহার। অথচ ক্যাম্পাসে সামান্য একটু নাস্তা করতে পকেট কেটে খরচ বহন করতে হয় এসব শিক্ষার্থীদের। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আধুনিক ফুডকোর্টে তিন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানকে দোকান ইজারা দিয়ে এ পকেট কাটার রেওয়াজ চালু করেছেন বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।
টেস্টি ট্রিট, শূন্য ও সিতারা বেকারী নামে তিনটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে মাসিক তিন হাজার টাকা ভাড়া, ২৫ হাজার টাকা সিকিউরিটি ডিপোজিট, সাধারণ বৈদ্যুতিক মিটার ব্যবহার ও সিটি কর্পোরশনের ট্যাক্সবিহীন সেবাসহ নানান সুযোগ সুবিধা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রদান করছে বলে জানান হিসাব দপ্তর। এ সত্ত্বেও এ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো চড়া মূল্যে নিত্যদিনের খাবারের দাম রাখছেন বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে খাবারের মূল্য তালিকা দিয়েই পণ্য করছে বলে জানান প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত টেস্টি ট্রিটের খাবারের মেন্যুতে দেখা যায়, কম দামের মধ্যে সিঙ্গারা, সমুচা, মাফিন কেক, মিক্সড ফ্রুট ড্যানিশ বন ও কপি ২০ টাকা, ক্রিম ডোনাট বন ২৫ টাকা, কাপ আইসক্রিম ৩০ টাকা, প্রিমিয়াম অ্যাগ পুডিং ৪৫ টাকা, অ্যারাবিক পিরনি ৫৫ টাকা, মনি ফ্রাই রোল ৬০ টাকা, স্পেশাল চিকেন ব্রেড ৭০ টাকা, চকোলেট কোটেড পেস্ট্রি ৮৫ টাকা, কেএইচপি মিনি পিজ্জা ৯০ টাকা, সসেজ ডিলাইট পিজ্জা ১০০ টাকায় শিক্ষার্থীদের কিনে খেতে হয়।
মাঝামাঝি দামের মধ্যে মিনি ব্ল্যাক ফরেস্ট কেক ১৬০ টাকা, টিটি ড্রাই কালোজাম ৩৫০ টাকা করে বিক্রি করে প্রতিষ্ঠানটি। সর্বোচ্চ দামের মধ্যে ৬০০ টাকা করে চকোলেট লেডি কেক, চকোলেট কোটেডসহ এ জাতীয় কেক গুলো শিক্ষার্থীদের জন্মদিনসহ বিভিন্ন উপলক্ষে বিক্রি করে প্রতিষ্ঠানটি।
অথচ ক্যাম্পাসের বাইরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে একই কোম্পানির আরেকটি ফুডস্টল লাখ টাকার সিকিউরিটি ডিপোজিট ফি, মাসিক ৩৩ হাজার টাকা ভাড়া ও ব্যবসায়িক মিটারে মাসিক ৬০ হাজার থেকে ৭০ হাজার বৈদ্যুতিক খরচ দিয়ে ঠিক একই দামে এসব পণ্য বিক্রি করতেছে বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির কর্মী আশরাফুল ইসলাম মামুন। তারমধ্যে মাসিক ভাড়া মালিক পক্ষ বাৎসরিক ১০ শতাংশ করে বৃদ্ধি করেও বলে জানান তিনি।